মমতার বিরুদ্ধে ভবানীপুরে প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে নন অধীর, কংগ্রেসের দিকে তাকিয়ে সিপিএম
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিজের মত পোষণ করে জানিয়েছিলেন ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্যোযোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষে তিনি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিজের মত পোষণ করে জানিয়েছিলেন ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্যোযোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষে তিনি। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্যোমতপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে উপনির্বাচন ঘোষণার পরও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এরই জায়গায় থাকলেন। তবে প্রার্থী দেওয়া হবে কি না তা নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়ে দিলেন অধীর।

অধীর চৌধুরী বলেন, আমি ভবানীপুরে প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষে মত পোষণ করেছিলাম। এখন আমি প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষেই। কিন্তু প্রার্থী দেওয়া হবে কি না, তা তো শুধু আমার ব্যক্তিগত মতের উপর নির্ভর করবে না। অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হাইকম্যান্ডের মতও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এরই মধ্যে কলকাতায় পা রেখেছেন এআইসিসি-র নেতা সলমন খুরশিদ। তিনি কলকাতায় পা রেখেই জানিয়েছেন, ভবানীপুরে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়েছে। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে কি না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চার তরফে ভবানীপুরে কংগ্রেস প্রার্থী দেয়। কংগ্রেস প্রার্থী হন প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতি সাদাব খান। ভবানীপুর থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। শোভনদেব ভোট জেতার ২০ দিনের মধ্যে পদত্যাগ করে বুঝিয়ে দেন এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে তাঁর মত নেই। তিনি চান না মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিক কংগ্রেস। অধীরের এই প্রস্তাবের আগে থেকেই দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার সখ্যতা শুরু হয়ছিল। এবং আসন্ন ২০২৪-এর লক্ষ্যে একসঙ্গে পথ চলার কথাও শুরু হয়েছে।
এবার বিধানসভা নির্বাচনে স্বাধীনতার পর প্রথম কংগ্রেস শূন্যে নেমে গিয়েছে। বাংলায় একজন বিধায়কও নেই কংগ্রেসের। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্যোযেপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে অধীর চৌধুরী কী বার্তা দিতে চাইলেন, তা নিয়ে চর্চা চলছে। ভোট পরবর্তী সময়ে অধীর চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনেক নমনীয়। এর নেপথ্যে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এতদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠোর সমালোচকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। তাই কংগ্রেস কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে তাকিয়ে সিপিএম। প্রয়োজনে জোটের শর্ত ভেঙে সিপিএম ভবানীপুরে প্রার্থী দিতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications