তৃণমূল ব্যস্ত বিজেপির মোকাবিলায়! সুযোগ বুঝে বাংলায় ঘুরে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর সিপিএম
অতি সন্তর্পণে সিপিএম ফের রাজ্য রাজনীতিতে জেগে উঠতে চাইছে। ২০২১-এ তৃণমূল যখন বিজেপির উত্থান রুখতে ব্যস্ত, সিপিএম চাইছে বাংলার বুকে নিজেদের অস্তিত্ব ফেরাতে।
অতি সন্তর্পণে সিপিএম ফের রাজ্য রাজনীতিতে জেগে উঠতে চাইছে। ২০২১-এ তৃণমূল যখন বিজেপির উত্থান রুখতে ব্যস্ত, সিপিএম চাইছে বাংলার বুকে নিজেদের অস্তিত্ব ফেরাতে। আর বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলে পরিচিত নন্দীগ্রাম থেকেই পথ চলা শুরু করতে চাইছে সিপিএম, যেখানে ১৩ বছর আগে অস্তমিত হয়েছিল লাল-সূর্য।

‘ক্ষমতায় নেই, জনগণের সাথে আছি'
বর্তমানে বিজেপির উত্থান প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূলের কাছে। তৃণমূল তাই গেরুয়া ব্রিগেডের মোকাবিলায় ব্যস্ত। আর এই সুযোগ নিয়ে বামফ্রন্ট জনগণের সঙ্গে ব্লক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিপিএম মানুষের সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করে স্লোগান তুলেছে- ‘আমরা ক্ষমতায় নেই, তবে আমরা সংকটে জনগণের সাথে আছি'।

বামফ্রন্ট জেগে উঠতে চাইছে মানুষের হাত ধরে
এইভাবেই গত কয়েক মাস ধরে, বাংলায় বামফ্রন্ট আবার জেগে উঠতে চাইছে। দলীয় ক্যাডাররা বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকছে। কমিউনিটি রান্নাঘর, নিখরচায় রেশন এবং সবজির বাজারের আয়োজনে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং জামাকাপড়ের জন্য কিট বিতরণের মাধ্যমে দরিদ্র ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বামেদের মুখে মানুষের দুর্দশার কথা
একইসঙ্গে তারা কেন্দ্রের এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতি যেমন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, কয়লা ব্লকের বেসরকারিকরণ, রেলপথ, চাকরি হারানো, কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়া, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কথায় রাজ্যজুড়ে সক্রিয়ভাবে সমাবেশ করছে। বামফ্রন্টের অনেক নিবেদিত কর্মী বাংলায় দলের পুনর্গঠনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন।

মানুষ তৃণমূল-বিজেপিতে বিরক্ত, বিকল্প খুঁজছে
সিপিএম তথা বামফ্রন্টের কথায়, "বিশ্বাস করুন, মানুষ তৃণমূল এবং বিজেপি-র প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়েছে। তারা বাংলার প্রতিটি কোণে দুর্নীতির বাসা বেঁধেছে। আম্ফান এবং করোনা লকডাউন চলাকালীন কেউ মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। রেশন লুঠ হয়েছে। মানুষের হাতে ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছয়নি।

বিকল্প হয়ে ওঠার চেষ্টায় বাংলার সিপিএম
সিপিএমের দাবি, ভবিষ্যতে জনগণ কাকে সমর্থন করবে জানি না, তবে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট যে মানুষ তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়ের প্রতিই ক্ষুব্ধ। গত কয়েকমাসে বামফ্রন্টের কর্মীরা, প্রধানত যুবকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। জনগণের সামনে রাজ্যের তৃমমূল এবং কেন্দ্রের বিজেপির ব্যর্থতা তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে।

‘লাল সালাম আর ইনকিলাব জিন্দাবাদ'তে মুখর নন্দীগ্রাম
২০১৯-এর ৭ এপ্রিল যে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী সিপিএমের সূর্যাস্ত ঘটিয়েছিলেন, সেখানেই ফের নীরবতা ভেঙে গর্জে উঠেছিল ‘লাল সালাম আর ইনকিলাব জিন্দাবাদ' ধ্বনি। নন্দীগ্রামে আবার বাম-স্লোগান, লাল-উদ্দীপনা জেগে উঠতেই প্রাসঙ্গিকতায় ফেরার পরিল্পনা শুরু হয়েছিল, নন্দীগ্রামে সুকুমার সেনগুপ্ত ভবনের আশেপাশের অঞ্চলগুলিকে হয়ে উঠেছিল লালে লাল। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ১২ বছর পরে দলীয় কার্যালয়টি আবার চালু করতে সক্ষম হয়েছিল সিপিএম।

নন্দীগ্রাম থেকেই সিপিএম ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে
২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের পর সিপিএম অফিস পুনরায় চালু করা অর্থাৎ সুকুমার সেনগুপ্ত ভবন পুনরায় খোলা ছিল সিপিএমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ তৃণমূলের নন্দীগ্রাম আন্দোলন বাংলায় বামফ্রন্ট সরকারকে পতনের দিকে পরিচালিত করেছিল। তারপর থেকেই অপ্রাসঙ্গিক হতে শুরু করেছিল বামেরা। এরপর নন্দীগ্রাম থেকেই সিপিএম নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications