সিপিএমের শূন্যস্থানে দ্রুত ঢুকে পড়েছে বিজেপি! ক্ষমতা হারানোর ৯ বছরেই অপ্রাসঙ্গিক
সিপিএমের শূন্যস্থানে দ্রুত ঢুকে পড়েছে বিজেপি! ক্ষমতা হারানোর ৯ বছরেই অপ্রাসঙ্গিক
২০২১-এ পশ্চিমবঙ্গে বামেদের পুনরুত্থানের কোনও সম্ভাবনা দেখছে না রাজনৈতিক মহল। এবার পুরোপুরি তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিজেপির লড়াইয়ে পরিণত হতে চলেছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। কেননা সিপিএম তথা বাম দলগুলিতে তরুণ সমাজের প্রতিনিধিত্ব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। সিপিএম আর সেভাবে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও করছে না তা নিয়ে।

বাম-কংগ্রেসের জায়গা নিয়েছে বিজেপি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে রাজ্যের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার ৯ বছরের মধ্যেই সিপিএম অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। আর এই শূন্যস্থান পূরণে দ্রুত উঠে এসেছে বিজেপি। তারা ইতিমধ্যেই প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাম-কংগ্রেস খাতায় কলমেই রাজ্যের বিরোধী দল। মাত্র দু-বছরেই তাঁদের জায়গায় নিজেদের অস্তিত্ব ফুটিয়ে তুলেছে বিজেপি।

১৮ থেকে ৩১ বয়সী সদস্য কমছে
২০১৬ সালের পর থেকে সিপিএম দ্রুত সমর্থন হারাতে থাকে বাংলায়। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩১ বছর বয়সীরা আর কেউ সিপিএমে আসছেন না সেভাবে। ফলে সিপিএমের তরুণ প্রতিনিধি কমে যাচ্ছে। সিপিএম তরুণ সমাজকে প্রভাবিত করতে পারছে না। আর মাত্র আট মাস বাকি নির্বাচনের, তার আগে এই হাল সিপিএমকে ছিটকে দিয়েছে লড়াই থেকে

তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে মেরুকরণের যুদ্ধ
রাজ্যে দ্বিতীয় তৃণমূল সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২০২১-এর ২৭ মে। আসন্ন এই নির্বাচন তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে মেরুকরণের যুদ্ধ হতে চলেছে। বামফ্রন্ট কংগ্রেসের সাথে জোট বেঁধে এবং রাজ্যের দুটি প্রধান শক্তির তৃতীয় বিকল্প হিসাবে জোটকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু তা প্রত্যাশার বিরুদ্ধে যাচ্ছে।

বিজেপিতে তারুণ্য বাড়ছে, ইতিবাচক দিক
সম্প্রতি সদস্যপদ বাড়ানোর অভিযানে নেমে বিজেপি দাবি করেছে যে, তারা তরুণদের মধ্যে সবথেকে বেশি উৎসাহ লক্ষ্য করেছে। বিজেপির নতুন সদস্যদের বেশিরভাগই যুবক। বিজেপি রাজ্য ইউনিটের সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, এটাই বিজেপির সবথেকে বেশি ইতিবাচক দিক।

বাংলার যুবশক্তি তরুণদের জন্য প্ল্যাটফর্ম
আবার তৃণমূল সম্প্রতি বাংলার যুব শক্তি নামে তরুণদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। তৃণমূলের দাবি অনুসারে, প্রায় ছয় লাখ স্বেচ্ছাসেবক ইতিমধ্যেই নাম তালিকাভুক্ত করেছে এই প্লাটফর্মে। সিপিএম সেখানে দলের সদস্যপদের স্থিতাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পার্টির সদস্যপদ সেখানে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ০৪২ থেকে নেমে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৪৮৫-তে নেমে এসেছে।

সিপিএমের সদস্য সংখ্যা হ্রাসমান
২০১১ সালের আগে এই পার্টির তিন লাখেরও বেশি সদস্য ছিল। তবে ২০১৫ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২.৬৬ লক্ষ এবং ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১.৯৬ লক্ষে। পার্টির রাজ্য ইউনিটের নেতারা এই প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের আরও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে ৩১ বছরের কম বয়সী সদস্য সংখ্যা হ্রাস। ২০১৯ সালে ৯.০৯ ছিল ৩১ বছর বয়সী পর্যন্ত সদস্য সংখ্যা। তা বর্তমানে ৭.৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালে ৩১ বছর বয়স পর্যন্ত সদস্য ছিল ১৩.৫ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications