তৃণমূলকে সমর্থন ইস্যুতে উত্তাল বাম রাজনীতি, মমতার নেতৃত্ব নিয়ে দু-ভাগ সিপিএম
তৃণমূলকে সমর্থন ইস্যুতে উত্তাল বাম রাজনীতি, মমতার নেতৃত্ব নিয়ে দু-ভাগ সিপিএম
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের পর বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূলের সঙ্গে যেতেও রাজি। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের উল্টো সুর শোনা গেল সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রাক্তন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর মুখে। এর ফলে তৃণমূলকে সমর্থন ইস্যুতে উত্তাল বাম রাজনীতি।

তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা এক হবে কি না প্রশ্ন
বিমান বসু ও সূর্যকান্ত মিশ্র উভয়েই বলেছিলেন, বিজেপি বিরোধিতায় যে কোনও মঞ্চে যেতে তারা রাজি। কিন্তু সুজন উল্টো সুরে বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা এক হবে কি না এই প্রশ্ন একেবারেই অবান্তর। তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা এক হতে যাবে কেন? বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কবে লড়াই করল? বিজেপির সঙ্গে তো সরকার গড়েছে ওরা।

রাজ্যে বিজেপিকে ৩ থেকে ৭৭ করেছে তৃণমূল! অভিযোগ
সুজন আরও বলেন, রাজ্যে বিজেপিকে ৩ থেকে ৭৭ করেছে তৃণমূল। এটা ভুলে গেলে চলবে না। বরং বিজেপির সঙ্গে লড়াই করেছি আমরা। তৃণমূল বিজেপির আগে থাকবে, মাঝে থাকবে না, বিরুদ্ধে থাকবে, সেটা ওদের ব্যাপার। উল্লেখ্য, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি বিরোধী মঞ্চ গড়ার ডাক দেন।

কংগ্রেস আর তৃণমূল অনেক কাছাকাছি এসেছে, ধন্দে বামেরা
একুশে বিরোধী ঐক্যের ডাক দেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি সফরে গিয়েছেন। সেখানে তিনি অ-বিজেপি দলগুলিকে এক করার চেষ্টা করবেন। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও আলাদা করে তিনি বৈঠক করবেন। ইতিমধ্যে কংগ্রেস আর তৃণমূল অনেক কাছাকাছি এসেছে। ফলে বামেরা চিন্তায় তাঁরা কোন অবস্থান নেবেন।

বামেরা কি তৃণমূলের নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী ঐক্যে সামিল হবে!
এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী ঐক্যের প্রধান মুখ হতে পারেন বলেই রাজনৈতিক মহলের বেশিরভাগ অংশ মনে করছে। সেক্ষেত্রে কী হবে বামেদের অবস্থান। বামেরা কি তৃণমূল সুপ্রিমোর নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী ঐক্যে সামিল হতে পারবে। নাকি তারা আলাদা থেকেই বিজেপি বিরোধিতা করে যাবে। সিপিএম তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদতে বিজেপি বিরোধিতা করেননি
সিপিএমের সূর্যকান্ত মিশ্র ও বিমান বসু বলছেন বিজেপি বিরোধিতায় যে কোনও মঞ্চেই তাঁরা থাকবেন। কিন্তু সুজন চক্রবর্তী বা অন্যান্য অনেকেই তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধিতায় নামতে নারাজ। তাঁদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদতে বিজেপি বিরোধিতা করেননি। তাহলে আজ বাংলায় বিজেপি বাড়তে পারত না।

বিজেপিকে হারাতেই হবে, তৃণমূল নেতৃত্বকে মানতে নারাজ
সিপিএমের অন্দরে একদল আওয়াজ তুলেছে একলা চলো নীতির পক্ষে। সুজন চক্রবর্তী বলছেন, আমাদের বিজেপি বিরোধী অভিযান চলবে আলাদা করে। বিজেপিকে হারাতেই হবে। এক্ষেত্রে তৃণমূল নেতৃত্বকে তিনি মানতে নারাজ। কেননা কখন তৃণমূল বিজেপির সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করবে কেউ জানে না। তাই সন্দেহ থেকেই যায়।












Click it and Unblock the Notifications