অবশেষে লক্ষ্মণ শেঠকে বহিষ্কার করল আলিমুদ্দিন

বৃহস্পতিবার দলের তরফে এক প্রেস বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরে দলীয় সংগঠনকে সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে রাজ্য কমিটি যখন সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে, সে সময় গুরুতর দল-বিরোধী কার্যকলাপ ও দলের ভাবমূর্তিকে জনসমক্ষে হেয় করার কাজে লিপ্ত হয়েছেন, ওই জেলার জেলা কমিটি ও জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লক্ষ্মণ শেঠ৷ এই অভিযোগে তাঁকে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তক্রমে দল গঠনতন্ত্রের ১৯ নম্বর ধারার ১৩ নম্বর উপধারায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আগেই জানিয়েছিলাম সদস্যপদের পুনর্নবীকরণ করাতে চাইনা, তাহলে বহিষ্কার করার মানে কি?
দলের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লক্ষ্মণ। তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য বহিষ্কার করা হলে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য়কেও বহিষ্কার করা উচিত। ওঁকে তো ১০ বার বহিষ্কার করা উচিত। এমনকী বুদ্ধদেবকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পরেই ওনার পদত্যাগ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু উনি তা করেননি।
এদিকে দলের সিদ্ধান্ত জানার পর তিনি বলেন, তিনি আগেই জানিয়েছিলেন সদস্যপদের পুনর্নবীকরণ করাতে চান না। অর্থাৎ তিনি দল ছেড়েই দিয়েছেন। দল ছেড়ে দেওয়ার পর কাউকেবহিষ্কার করার মানে কী, এ প্রশ্ন তোলেন লক্ষ্মণ শেঠ।
পূর্ব মেদিনীপুরে লক্ষ্মণ শিবির যে অত্যন্ত শক্তিশালী তা কারোর অজানা নয়। তমলুকে দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বাম নেতৃত্বকে। লক্ষ্মণের শিবিরের কথা মাথায় রেখেই ধীরে চলোর পথেই হাঁটে শীর্ষ নেতৃত্ব। বিমান বসু লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে সুর নরম করতেই উঠতে শুরু করে প্রশ্ন। অথচ তার পরেই মুখ খুলতে শুরু করেন লক্ষ্মণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুকে পাটা আছে। এদিকে সিপিএমকে স্বৈরতান্ত্রিক পার্টি বলে আখ্যা দেন লক্ষ্মণ শেঠ। মুষ্টিমেয় কিছু লোক পার্টি চালাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লক্ষ্মণ প্রসঙ্গে বিমানবাবুর অবশ্য় বক্তব্য, লক্ষ্মণ নিজেকে দলের উর্ধ্বে বাবতে শুরু করেছে। তাই এসব বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করছে। তবে মমতার প্রসুস্তিতে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের সঙ্গে কী তবে বোঝাপড়ার পথেই গেলেন লক্ষ্মণ? সে প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য, শুধউ খোঁজ নিয়ে দেখব বলেই এড়িয়ে গেলেন বিমানবাবু।












Click it and Unblock the Notifications