‘বড়দা’ সিপিএমের সঙ্গে সম্মুখ সমরে সিপিআই, বামফ্রন্টকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল দুই শরিক
‘বড়দা’ সিপিএমের সঙ্গে সম্মুখ সমরে সিপিআই, বামফ্রন্টকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল দুই শরিক
সিপিআই ভেঙে দু-ভাগ হওয়ার পর বাংলায় তাঁরা একসঙ্গে চলেছে দীর্ঘদিন। সাতের দশক থেকে টানা ৩৪ বছর তারা একসঙ্গে থেকে বাংলা শাসন করেছে। এর মধ্যে তাদেরকে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হতে দেখেনি রাজনৈতিক মহল। এখন বাংলায় যখন তৃণমূলের জোয়ারে বামেরা সাইনবোর্ডে রূপান্তরিত হয়েছে, তখন সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হতে দেখা যাচ্ছে সিপিএম ও এবং সিপিআইকে।

সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টে সিপিআইও অন্যতম শরিক
ছয়ের দশকের প্রথমে সিপিআই ভেঙে সিপিএম তৈরি হয়েছিল। তারপর কিছুদিন তারা পৃথক থাকলেও ফের বাংলায় জোড়া লাগে তাদের ভাঙা সংসার। সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টে সিপিআই ছিল অন্যতম বড় শরিক। সেই শরিকদের নিয়েই বাংলা শাসন করেছে সিপিএম। টানা ৩৪ বছরের সেই বাম-রাজত্বের অবসানে এখন ১০ বছর তৃণমূলের হাতে বাংলার রাজপাট।

দুই শরিক সিপিএম ও সিপিআই সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ
টানা তৃতীয়বার সরকার গড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। বিধানসভা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে বামেরা। তারপর কলকাতার পুরভোটেও প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়েছে তারা। এবার বিধানগর-সহ চার পুরসভার নির্বাচন সামনে। সেই নির্বাচনেই দেখা যাবে দুই শরিক সিপিএম ও সিপিআইয়ের সম্মুখ সমর।

বাম-ঐক্যের ছবি প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে আসন্ন পুরভোটে
বিধাননগরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁদের লড়াই শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বাম-ঐক্যের ছবি প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে। রাজ্যে বামফ্রন্ট তৈরির সময় মেদিনীপুর, ২৪ পরগনা, নদিয়া, বর্ধমান ও পশ্চিম দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে সিপিআইয়ের খুব ভালো সংগঠন ছিল। তাদের জনসমর্থনও বেশি ছিল সেই সময়।

সিপিএমের প্রভাবে ভ্যানিশ হয়েছে সিপিআইয়ের ভোট-ব্যাঙ্ক
কিন্তু ৩৪ বছরের বাম জমানায় দেখা যায় শরিক দলগুলি শক্তি হারিয়ে ছোট হয়ে গিয়েছে। আর ফুলে ফেঁপে উঠেছে সিপিএম।বাম জমানাতেই সিপিএমের হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন সিপিআইয়ের বহু সমর্থক-কর্মীরা। ধীরে ধীরে তারা প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। শেষমেশ সিপিএমের প্রভাবে ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছে সিপিআইয়ের ভোট-ব্যাঙ্ক।

নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করছে রাজনীতিতে ভেসে থাকতে
সিপিআইয়ের হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক-সাংসদ বা মন্ত্রী ছিল। তারা আলিমুদ্দিনের দাক্ষিণ্যে নিজেদের পদ ধরে রেখেছে। বামফ্রন্টগতভাবে তারা এক জায়গায় থেকেছে স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়া সত্ত্বেও। এখন অবশ্য সিপিএম এবং সিপিআইয়ের মধ্যে তেমন কোনও পার্থক্য নেই। উভয়েই প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তার মধ্যেই ভেসে থাকতে তারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করছে।

‘রা’ কাটত না আগে, এখন চোখ রাঙাচ্ছে ছোট ভাই সিপিআইও
বিধাননগরের ওই ওয়ার্ডে সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিআই প্রার্থী হয়েছেন সুহিতা বসুমল্লিক। সুহিতার ফ্লেক্স, ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সুহিতা সরাসরি সিপিএমের নাম না নিলেও স্থানীয় সিপিআই কর্মীরা আঙুল তোলেন বড় শরিক সিপিএমের দিকে। এতদিন বাম শরিক সিপিআইকে বড়দা সিপিএমের বিরুদ্ধে 'রা' কাটতে দেখা যেত না। এখন ছোট ভাই হয়েও চোখ রাঙাচ্ছে সিপিআই।
ছবি সৌ:টুইটার












Click it and Unblock the Notifications