বামেরা কেন মুছে গেল বিধানসভা নির্বাচনে, রাজ্য কমিটির বৈঠকে কবুল করল নেতৃত্ব
বামেরা কেন মুছে গেল বিধানসভা নির্বাচনে, রাজ্য কমিটির বৈঠকে কবুল করল নেতৃত্ব
বামেরা বিধানসভা থেকে একেবারে মুছে গেল। স্বাধীনোত্তর পর্বে এমন ঘটনা কোনওদিন ঘটেনি। কী এমন হল- এমন হতাশজনক পারফররমেন্স করল বামেরা। কোথায় গলদ ছিল, তা নিয়েই রাজ্য কমিটি বৈঠকে বসছিল। রাজ্য কমিটির বৈঠকেই বাম নেতৃত্ব কবুল করল, বাংলার বিধানসভায় অস্তিত্বহীন হওয়ার নেপথ্য কারণ।

বঙ্গ নেতৃত্বকেই কাঠগড়ায় তুললেন ইয়েচুরি
স্বাধীনতার পর প্রথম বাম ও কংগ্রেসশূন্য বিধানসভা হবে বাংলায়। বিধানসভায় তবু কংগ্রেস নামাঙ্কিত শাসকদল আছে। কিন্তু বামেরা তো অস্তিত্বহীন। এই অবস্থার জন্য কারা দায়ী। সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে বঙ্গ নেতৃত্বকেই কাঠগড়ায় তুললেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

বাম ভোট রামে, সেদিকে দৃষ্টি দিতেই গোল তৃণমূলের
আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারিনি আমাদের কথা। শুধঘুমাত্র আদর্শ মেনে প্রার্থী দীলেই হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য নেতৃত্ব কবুল করেছে, আমরা বরাবরই বিজেপি ও তৃণমূলের সঙ্গে সমদূরত্ব নিয়ে চলেছি। যেহেতু বিগত নির্বাচনে বামেদের ভোট বেশিরভাগই বিজেপিতে চলে গিয়েছিল, সেদিকে দৃষ্টি দিতে গিয়েই বিপত্তি ঘটে গিয়েছে।

বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছে মানুষ
বিজেপিকে আটকাতে বাংলার মানুষ যে বামেদের ছেড়ে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে যাবে সম্পূর্ণভাবে, তা আমরা বুঝতে পারিনি। আমরা বাংলার মানুষের মন পড়তে ব্যর্থ হয়েছি। বিজেপিকে টার্গেট করেই এগিয়েছিল বামেরা। বাংলার মানুষও তা-ই ভেবেছিল। কিন্তু তাঁরা যে বিজেপিকে আটকানোর জন্য বামেদের ছেড়ে এবার তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছে, তা বোঝা সম্ভবপর হয়নি।

আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে সংশয় প্রকাশ
সীতারাম ইয়েচুরি মনে করেন, বিজেপিকে আটকাতে, তাঁদের কাছে চলে যাওয়া ভোট ফেরাতে গিয়ে তৃণমূলকে গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তার ফল ভুগতে হয়েছে। আর ইয়েচুরির সামনেই আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে নেতৃত্ব। তা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। সীতারাম ইয়েচুরি তা নিয়ে বলেন, এখন বিতর্ক করার সময় নয়। খোলামেলা ভাবতে হবে। শুধু সংযুক্ত মোর্চা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই হবে না, আমাদের ভূমিকা সঠিক ছিল কি না, তাও দেখতে হবে। আত্মসমীক্ষা করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications