কখনও হাতে খড়ি, আবার কখনও হাতে ছুরি! তৃণমূল-বিজেপি-র 'ডাল'ত্যাগ নিয়ে কটাক্ষ মহঃ সেলিমের
রাজ্যের রাজ্যপাল নিয়ে আগেকার অবস্থানের কোনও পরিবর্তন করেনি সিপিআইএম। এদিন তা একবার স্পষ্ট করে দিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম। পাশাপাশি তিনি এদিন বীরভূমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'সিস্টেম' নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।
আগের রাজ্যপাল ঘন ঘন টুইট করতেন। আর এই রাজ্যপাল এসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করছেন। এব্যাপারে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মগঃ সেলিম বলেছেন, রাজ্যপাল হলেন রাজ্যে কেন্দ্রের সব থেকে বড় এজেন্ট। ফলে তিনি কী বলতে চাইছেন, তা পরিষ্কার।

প্রসঙ্গ দলবদল
সেলিম বলেছেন, রাজ্যে বিজেপিকে তৈরি করা হয়েছে। কোচবিহারের নিশীথ প্রামাণিকের নাম করে তিনি বলেন, জেলায় তৃণমূলের হয়ে তোলাবাজি করত। আর এখনম দেশের সব থেকে বড় তোলাবাজের কাছে গিয়ে জুনিয়র মন্ত্রী হয়েছে। এখানে ঝান্ডা পাল্টেছে। এখানে দলবদল করেছে নিজের স্বার্থে। ধোঁকাবাজ-দলত্যাগীদের দিয়ে কোনও বড় সমস্যার সমাধান করা যায় না, বলেছেন তিনি।

দলত্যাগ না ডাল ত্যাগ
দলত্যাগকে তিনি ডাল ত্যাগ বলে কটাক্ষ করেন। বাঁদর আর হনুমানরা যেমন এক ডাল থেকে অন্য ডালে লাফায়, এদের ওরকম লেজ না হলেও, তারা এ ডাল থেকে, ও ডালে লাফায়, লেজ সামলাতে। তিনি বলেছেন, রাজ্যে মমতা-মুকুল-শুভেন্দুরা নিজাম প্যালেসে বসে পঞ্চায়েত-পুরসভা-বিধায়ক কেনাবেচা শুরু করেছিল। এখন তা বিজেপি-তৃণমূল উভয়েই করছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বীরভূমে আগের সিস্টেম
তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল গত কয়েকমাস ধরে জেলে। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সে দিকে তাকিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিন কয়েক আগে জেলায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছেন আগের সিস্টেমেই সব চলবে। এব্যাপারে কটাক্ষ করে মহঃ সেলিম বলেছেন, আগের সিস্টেম মানে, নকল টোল প্লাজা, ডিসিআর, পাথর-কয়লায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন। তিনি বলেছেন, মানুষ যেখান থেকে পরিত্রাণ চাইছে, তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পাড়ায় পাড়ায় আটটা-দশটা করে তৃণমূলের গোষ্ঠী। আর তা থেকেই মাড়গ্রামের মতো ঘটনা ঘটছে। এদের সবাইকে মদ-মাংস-লুটের টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, তারা বাঁচতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূলে থাকলেও প্রাণ সংশয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই কারণে তাঁরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তৃণমূলের শিবির ছাড়ুন।

কখনও হাতে খড়ি, আবার কখনও হাতে ছুরি
মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাজ্যপাল। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মহঃ সেলিম বলেন, কখন যে কখনও হাতে খড়ি, আবার কখনও হাতে ছুরি ধরছে তা বোঝা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, রাজ্যপাল হল কেন্দ্রীয় সরকারের সব থেকে বড় এজেন্ট। আর রাজভবন হল কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সি। আর রাজ্যপাল কিছু বলা মানে, তা মোদী-অমিত শাহের কথাই বলছেন তিনি। সেলিম বলেছেন, অমিত শাহের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর থেকে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। মোদী মমতাকে গাল দিচ্ছেন না। লড়াইটা পেটের ভাত নিয়ে হলেও, এখানে একে অপরের পিঠ চুলকোচ্ছেন বলে কটাক্ষ করেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications