পুলিশকে ধোঁকা দিয়ে সন্দেশখালিতে বাম-বুদ্ধিজীবীরা! এবার নিরাপদ সর্দারকে সামনে রেখে কর্মসূচি ঘোষণা মহঃ সেলিমের
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ সন্দেশখালির প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে মুক্তি দিয়েছে। এদিনই তাঁকে জেল থেকে মুক্তি না দিলে তা আদালত অবমাননার সামিল হবে বলেও জানিয়েছে হাইকোর্ট। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম এদিন হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম বলেন, নিরাপদ সর্দারকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করেছিল। যা নিয়ে হাইকোর্ট কটাক্ষই শুধু করেনি, প্রশ্ন করেছে কার নির্দেশে ধরা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ১৪৪ ধারা ভাঙলে এক কথা, কিন্তু তিনি তো তা করেননি। এখানে সায়েন্স সিটির কাছে আটকে দেওয়া হচ্ছে।

মহঃ সেলিম বলেছেন, তৃণমূলের চোর-ডাকাতরা ঘুরে বেড়াচ্ছে আর পুলিশ তাদেরকে পাহারা দিচ্ছে এবং তাদেরকে লঞ্চে করে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে যাঁরা আন্দোলন, সংগ্রাম করছে, যাঁরা প্রতিবাদী মানুষের কাছে যাচ্ছেন, তাঁদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এর আগেও নৌশাদ সিদ্দিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি, এবারও আটকে রাখতে পারবে না। সিপিআইএম তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদ করছে বলেও জানান তিনি।
সেলিম বলেছেন, মঙ্গলবার লেখক, শিল্পী, গায়ক,কবি, নাট্যকর্মীরা গিয়েছেন। গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদেরকে আলাদা আলাদা করে সেখানে যেতে হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন কেন আলাদা আলাদা করে যেতে হবে? তিনি বলেছেন, পুলিশকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, বামপন্থীরা জানে, এদিনও তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, এটাকে ফাঁকি বলে না, বুদ্ধির দৌড় বলে। এখানে প্রমাণিত বামপন্থী বুদ্ধিজীবী কর্মীদের তৃণমূলের নেতা কিংবা পুলিশদের থেকে অনেক বেশি বুদ্ধি রয়েছে।
২০১২ সাল থেকে সন্দেশখালিতে অত্যাচারের ঘটনা ঘটে থাকলে কেন বলেননি সেই সময়ের সিপিআইএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দার, এই প্রশ্নের উত্তরে তৎকালীন বাম বিধায়ক বলেছিলেন, তিনি বিধানসভায় বলতে গেলে মাইক অফ করে দেওয়া হয়েছিল। এদিন মহঃ সেলিমও সেই করা বলে জানিয়েছেন, সেই সময় স্পিকার কী করছিলেন। আর ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ তো এখন বিজেপি নেত্রী, কটাক্ষে বলেছেন মহঃ সেলিম।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম এদিন আসানসোলে বলেছেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ সর্দারকে নিয়েই দলের নেতারা সন্দেশখালিতে যাবেন। প্রসঙ্গত গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্দেশখালি থানার পুলিশ বাঁশদ্রোণীর ভাড়া বাড়ি থেকে নিরাপদ সর্দারকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications