বড় শরিক সিপিএমের পথেই সিপিআই-আরএসপি-ফরওয়ার্ড ব্লক, ফেরার লড়াইয়ে নবীনে ভরসা
বড় শরিক সিপিএমের পথেই সিপিআই-আরএসপি-ফরওয়ার্ড ব্লক, ফেরার লড়াইয়ে নবীনে ভরসা
সিপিএম সম্প্রতি ভরসা রেখেছে নবীন প্রজন্মের প্রতি। একুশের নির্বাচন পর্ব থেকে দেখা যাচ্ছে সিপিএম বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে নবীনদের বরণ করে নিচ্ছে। বিধানসভার প্রার্থী তালিকা হোক বা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী, সর্বত্রই নতুন মুখে ভরসা রাখার প্রবণতা। এবার বড় শরিক সিপিএমের পাশাপাশি চোট শরিকরাও একই পথে হাঁটছে।

বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে নতুন পথের দিশারি
সিপিএম এবার রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী থেকে যেমন প্রবীণদের বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মের নেতাদের ঢুকিয়েছে, তেমনই পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটিতেও দেখা গিয়েছে বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান ঘটাতে। অশীতিরপর বিমান বসু পলিটব্যুরো থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর দেখানো পথে বামফ্রন্টের বাকি শরিকরাও বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে নতুন পথের দিশারি হয়ে উঠছে।

কোনও সাধারণ সম্পাদক আর ভোটে নয়
‘বড়দা' সিপিএমের দেখানো পথে হেঁটেই ফরওয়ার্ড ব্লক নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি ভুবনেশ্বরে হয়ে যাওয়া জাতীয় পরিষদের বৈঠকে তারা একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মুখদের যাতে পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হয়, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লকের কোনও সাধারণ সম্পাদক আর ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না।

১০ শতাংশ নেতাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নেতাজি সুভাষচন্দ্রের দলের তরফে আর একটা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জাতীয় পরিষদের বৈঠকে। আর তা হল- আর কোনও সাধারণ সম্পাদক তিনবারের বেশি পদে থাকতে পারবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব। কমিটিতে থাকার জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ধার্য করা হয়েছে ৭৫। পাঁচ বছর অন্তর দলীয় সম্মেলনে ১০ শতাংশ নেতাকে বাদ দেওয়া হবে বিভিন্ন কমিটি থেকে।

সিপিএম যদি পারে, আরএসপিও পারবে
ফরওয়ার্ড ব্লক ছাড়াও আরএসপিও নতুন মুখ তুলে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। আসন্ন রাজ্য সম্মেলনের আগে আরএসপি নতুন মুখ তুলে আনতে উদ্যোগী হচ্ছে বলে শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে। সিপিএমকে দেখেই আরএসপি অনুপ্রাণিত হয়েছে বলে জানান রাজ্য সম্পাদক মনোজ ভট্টাচা্র্য। তাঁর কথা, সিপিএম যদি এত কম সময়ে এতসংখ্যক নতুন মুখ আনতে পারে। আমরা কেন পারব না।

নতুনদের জায়গা ছেড়ে দিতে গাইডলাইন তৈরি
আর সিপিআইয়ের জাতীয় পরিষদের বৈঠকেও নতুন প্রজন্মের কাঁধে দলের ভার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। যুব নেতাদের পাশাপাশি মহিলা ইউনিটকেও শক্তিশালী করে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুনদের জায়গা ছেড়ে দিতে শীর্ষ নেতৃত্ব গাইডলাইন তৈরি করেছে। সেই গাইডলাইন মেনে পরিবর্তনের প্রত্যাশী সিপিআই। কমিটিতে ৫০-এর কম বয়সী নেতাদের ৪০ শতাংশ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৫ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধিত্ব রাখার পক্ষে সিপিআই।












Click it and Unblock the Notifications