থার্ড ওয়েভে ক্রমশ 'কোভিড-যোদ্ধা'দের মধ্যে ছড়াচ্ছে করোনার সংক্রমণ! গোটা রাজ্যের ছবিটা একনজরে
বাংলায় করোনার থার্ড ওয়েভ শুরু! ভয়ঙ্কর গতিতে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। আর যেভাবে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে তাতে বঙ্গের আকাশে ক্রমশ তৈরি হচ্ছে আশঙ্কার কালো মেঘ। শুধু করোনা নয়, পাল্লা দিয়ে রাজ্যে বাড়ছে ওমিক্রনও। এই অবস্থায় যদিও সতর্ক রা
বাংলায় করোনার থার্ড ওয়েভ শুরু! ভয়ঙ্কর গতিতে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। আর যেভাবে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে তাতে বঙ্গের আকাশে ক্রমশ তৈরি হচ্ছে আশঙ্কার কালো মেঘ। শুধু করোনা নয়, পাল্লা দিয়ে রাজ্যে বাড়ছে ওমিক্রনও। এই অবস্থায় যদিও সতর্ক রাজ্য প্রশাসন। একেবারে মাঠে নেমে কাজ করছে কলকাতা পুরসভাও।
কিন্তু করোনার থার্ড ওয়েভে সবথেকে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন করোনা যোদ্ধারা। তালিকায় ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে পুলিশ আধিকারিকরা। চিকিৎসকদের মতে, আমরা একেবারে করোনার প্রথম পর্যায়ে ফিরে গিয়েছি।

পুলিশের ৮৩ জন করোনা আক্রান্ত
জানা যাচ্ছে কলকাতা পুলিশের ৮৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আইপিএস র্যাংকের অফিসারও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ৮৩ জনের মধ্যে ৪৭ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের উপসর্গ মৃদু বলে জানা যাচ্ছে। ফলে খুব একটা আশঙ্কার কিছু নেই। তবে করোনা নিয়ে কলকাতা পুলিশের কর্মীদের মধ্যে নতুন করে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ভয়ঙ্কর ভাবে ছড়াচ্ছে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও
শূধু কলকাতা পুলিশেই নয়, করোনার সংক্রমন ভয়ঙ্কর ভাবে ছড়াচ্ছে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ১০০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসক রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, রয়েছেন নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরাও। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ শহরের অন্যতম বৃহত সরকারি হাসপাতাল। ফলে সেখানে এত মানুষ করোনা আক্রান্ত হওয়াতে পরিষেবা কার্যত লাঠে ওঠার মতো অবস্থা।

দ্রুত হোস্টেল ছাড়তে বলা হয়েছে
কার্যত একই অবস্থা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সহ শহরের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলিরও। এখনও পর্যন্ত সেখানে মোট ৮০ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। সেই তালিকাতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছে। তবে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের দ্রুত আইসোলেশনে থাকার কথা বলা হয়েছে। হস্টেলেই থাকছেন তাঁরা। তবে হোস্টেলে থাকা সবারই আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানো হচ্ছে। যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে তাঁদের দ্রুত হোস্টেল ছাড়তে বলা হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলির অবস্থাও এক
কলকাতা এবং হাওড়ার সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলির অবস্থাও এক। আজ মঙ্গলবার নতুন করে এসএসকেএম হাসপাতালে ২০ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। নার্স, ডাক্তার মিলিয়ে ১৪ জন আজ মঙ্গলবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এমআর বাঙুর হাসপাতালে। অন্যদিকে হাওড়াতে সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির অবস্থাও খারাপ। কয়েকশ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

একই ছবি উত্তরবঙ্গ সহ জেলার হাসপাতালগুলিতেও
কার্যত একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গেও। শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতালেও বহু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। জানা যাচ্ছে, প্রায় ২৫ জনের মতো আক্রান্ত হয়েছেন সেখানে। সবাইকেই আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বর্ধমান সহ জেলার হাসপাতালেও বহু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার সামনে এসেছে। ফলে পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপের দিকে যাচ্ছে। আগামিদিনে চিকিৎসা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ারও আশঙ্কা। যদিও এই অবস্থায় ততপরতার সঙ্গে কাজ করছে স্বাস্থ্য দফতর।












Click it and Unblock the Notifications