করোনা সংক্রমণ ফিরিয়ে এনেছে বর্ণ বৈষম্য, কাজ পাচ্ছেন না পরিযায়ী শ্রমিকরা
ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম লকডাউন শুরু হয়েছিল মার্চ মাসে। অভিযোগ, আচমকাই মার্চ মাসে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই লকডাউন।
ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম লকডাউন শুরু হয়েছিল মার্চ মাসে। অভিযোগ, আচমকাই মার্চ মাসে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই লকডাউন। এর ফলে বাধ্যতামূলক কয়েক মিলিয়ন অভিবাসী শ্রমিক তাঁদের গ্রামে ফিরে আসে কঠোর ভ্রমণের মাধ্যমে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি শহরের ছোট ছোট অর্থনৈতিক ও সামাজিকক্ষেত্রে বর্ণ বৈষম্য শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের আস্তান গ্রামের এক পরিযায়ী শ্রমিক তাঁর দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের অপরিকল্পিতভাবে ফিরে আসা করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। আবার চাকরি পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভারতের দীর্ঘ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারমে নির্মাণ কাজ ব্যহত হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা উপার্জন করা যেত, সেখানে কাজ না থাকায় বর্ণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে তারা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোখার জন্য দেশব্যাপী লকডাউন চাপিয়ে দিলে বিল্ডিং সাইটগুলি বন্ধ হয়ে যায়। বাড়ি ফিরে পরিযায়ী শ্রমিকরা সেভাবে কাজ পায়নি দিন গুজরান করার মতো। সরকারের তরফে যে সব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগ গ্রামের প্রধান দ্বারা উচ্চবর্ণের কর্মীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই মহামারী তীব্র বৈষম্যের সৃষ্টি করেছিল। ভারতের প্রাচীন বর্ণ পদ্ধতি দ্বারা নির্ধারিত সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস আবার জেগে উঠেছে। তা-ই সামাজিক ক্রিয়াকলাপ থেকে শুরু করে সবকিছুকে নির্ধারণ করছে। অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হচ্ছে বর্ণবৈষম্যের দ্বারা। যাঁদের কোনও জমি নেই, কাজের সন্ধানে তারা গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
পরিযায়ী শ্রমিকরা বলছেন, যে পরিস্থিতি আমরা গ্রাম ছেড়েছিলাম, এখন ফিরে এসে দেখছি আরও খারাপ হয়েছে পরিস্থিতি। নিম্নবর্ণের লোকেদের উচ্চবর্ণের লোককে স্পর্শ করতে দেওয়া হয়নি। জেলা পঞ্চায়েতের অতিরিক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দ্রসেন সিংহ বলেন, এই অঞ্চলের সরকারি প্রকল্পে কাজ প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত সক্রিয় এবং তিনি বর্ণ বৈষম্য সম্পর্কে অভিযোগ পাননি।












Click it and Unblock the Notifications