ভবানীপুরে বাড়ছে করোনা, উপনির্বাচনের আগে 'সেফ হোম' না খোলার নির্দেশ পুরসভার
ভবানীপুরে বাড়ছে করোনা, উপনির্বাচনের আগে 'সেফ হোম' না খোলার নির্দেশ পুরসভার
'যায় যদি যাক প্রাণ, হীরকের রাজা ভগবান', সত্যজিৎ রায়ের এই সংলাপ যে কালজয়ী তা প্রমাণ করে ভবানীপুর! তবে এখানে রাজা নেই, রানী আছেন। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত রায়চৌধুরী একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে৷ যে রিপোর্টে বলা হয়েছে কলকাতার ৭ নং বোরোর ৬৩ নং ওয়ার্ডে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, যা ভবানীপুর বিধানসভায় অন্তর্গত। তবে শুধু এখানেই নয় কলকাতার ৯ টি বোরোর একাধিক জায়গাতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার কথা স্পষ্ট লেখা হয়েছে রিপোর্টটিতে৷

সংক্রমণ বাড়লেও এখনই খোলা যাবে না সেফ হোম!
পুজোর আগেই কলকাতায় করোনার সেফ হোম এবং কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলি খোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে লেখা হয়েছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের রিপোর্টে। তবে সঙ্গেই এই রিপোর্টে রয়েছে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়৷ এই রিপোর্টে পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বিষয় এবং সরকারি সেফ হোম ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলি খোলার গুরুত্বের কথা স্বীকার করলেও পরামর্শ দিয়েছেন ৩০ সেপ্টেম্বরের পর যেন এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলি খোলা হয়, তার আগে নয়!

কেন ৩০ সে সেপ্টেম্বর?
কারণ এদিনই উপনির্বাচন রয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। যেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়ে যিনি বর্তমানে নন-এমএলএ মুখ্যমন্ত্রী৷ কলকাতায় ও রাজ্যে করোনা সংক্রমন বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রথম থেকেই এই উপনির্বাচনের বিরোধিতা করে আসছে বঙ্গ-বিজেপি৷ অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে হলে এই উপনির্বাচন জিতেই হবে। না হলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। যেটা তৃণমূল দলের জন্য অসম্মানজনক। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই কথা বলে বারবার উপনির্বাচনের দাবি করেছে রাজ্যের শাসক৷ সে দাবিতে সম্মতি মেলায় এখন রাজ্যের শাসক দল আর কোনওভাবেই চাইছে না যে করোনা সংক্রমণের ইস্যু সামনে এসে এই উপনির্বাচনে বাধা আসুক!

এই সময় সেফ হোম খুললে বিরোধীদের হাতপ অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে!
এই সময় সরকারিভাবে যদি ভবানীপুর সহ কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় করোনা সংক্রমণ বাড়ার কথা বলে সরকারিভাবে সেফ হোম ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিকে খোলা হয় তাহলে সেটা উপ-নির্বাচনের মুখে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে বলেই মনে করছে শাসক দল৷ তাই কলকাতা জুড়ে সংক্রমণ বাড়ার কথা স্বীকার করে নিলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার না খোলার পরামর্শ দিচ্ছেন পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারীক!

কলকাতায় কোথায় কত করোনা?
গত ২২ অগাস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তথ্য নিয়ে তৈরি হওয়া পুরসভার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিকের রিপোর্টে বলা হয়েছে কলকাতা পুরসভার ৯টি বোরোর ৪৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১৪দিনে গড়ে ১০ জনের বেশি মানুষ করোনা সংক্রমিত হয়েছেন৷ এই ৯টি বোরোর ৮টিই দক্ষিণ কলকাতার অন্তর্ভুক্ত!












Click it and Unblock the Notifications