ইন্টারভিউ তালিকা নিয়ে ফের বিতর্ক, অযোগ্য নাম উঠতেই হাই কোর্টে নয়া মামলা
শিক্ষক নিয়োগে ফের নতুন জট। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইন্টারভিউ তালিকায় নাকি রয়ে গিয়েছে বহু অযোগ্য প্রার্থীর নাম। এই অভিযোগ তুলে আবারও কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক পার্টটাইম শিক্ষক। সোমবার তাঁর দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা, আগামী বুধবারই শুনানির সম্ভাবনাও রয়েছে।
মামলাকারী ফিরদৌস শামিমের দাবি, পার্টটাইম শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার নম্বর দেওয়া হবে না বলে কমিশন জানিয়েছিল। অথচ তাঁর চোখেনতালিকায় এমন অনেক সহকর্মী রয়েছেন, যাঁরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নম্বর পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ আরও তীব্র হয় ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশের পর। তাঁর কথায়, "সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও বহু 'অযোগ্য' প্রার্থী ইন্টারভিউর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ অমান্যতা। যাঁরা যোগ্য নন, তাঁদের নাম তালিকায় থাকা একেবারেই অসম্ভব।"

গত কয়েক মাস ধরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশে ২৫,৭৫২ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়, এবং যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নতুনভাবে পরীক্ষা নেওয়ার পথ খুলে যায়। সেই অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির নতুন নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। শনিবার রাতে প্রকাশিত হয়েছে ওই স্তরের ইন্টারভিউর প্রথম তালিকা। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকায় ফের ক্ষোভে ফুঁসছেন অনেক চাকরিহারা প্রার্থী।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানিয়েছেন, প্রার্থীরা যেন ধৈর্য রাখেন। তাঁর বক্তব্য, কমিশন ইন্টারভিউ যোগ্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে, পাশাপাশি ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হবে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। মন্ত্রীর মতে, "মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার অঙ্গীকারে আমরা অটল। তাই ভরসা রাখুন।"
বিতর্ক ও অসন্তোষের আবহে এখন নজর বুধবারের হাই কোর্টের শুনানির দিকে। ওই রায়ই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।












Click it and Unblock the Notifications