ভোটের মুখে সিঙ্গুরে মোদীর সফর! 'নাগরিকত্ব হরণ সভা', বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
বিধানসভা ভোটের আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিঙ্গুর সফরকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা একেবারে তুঙ্গে। টাটা কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রায় ১৭ বছর পর সিঙ্গুরে আবার প্রধানমন্ত্রীর পা পড়তে চলেছে। আর এই খবর সামনে আস্তে না আসতেই শুরু হয়েছে নানারকমের চর্চা। আর ঠিক সেই আবহেই সিঙ্গুরের রতনপুর এলাকায় একাধিক বিতর্কিত পোস্টার দেখা গেল। যা নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, রাস্তায় রাস্তায় রাতের অন্ধকারে এই পোস্টারগুলি লাগানো হয়েছে। আর সেই পোস্টারে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে লেখা রয়েছে, 'নাগরিকত্ব হরণ সভা'। অন্য আর এক পোস্টারে আবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, 'বাঙালিকে কেন ধোঁকা দিলে?' শুধুমাত্র তাই নয়, ওই পোস্টারগুলি থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে।
তবে, কারা এই পোস্টার লাগাল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের এই কাজ ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ যে, মোদীর সভা ঘিরে ভয় পেয়েই তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে এই পোস্টার লাগিয়েছে। তাদের দাবি যে, প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই পরিবেশ ঘোলা করার জন্যে এই চেষ্টা। অন্যদিকে আবার, শাসক দলের পাল্টা বক্তব্য যে, এটা কোনও রাজনৈতিক চক্রান্ত নয়, বরং এটা সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতাও তুঙ্গে। জানা গিয়েছে যে, সরকারি কর্মসূচিতে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করার কথা রয়েছে আজ। সেইসঙ্গে বলাগড়ে বন্দর গেট সিস্টেমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও রয়েছে সূচিতে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী কী আবার টাটাদের ফেরার বার্তা দেবেন? নতুন কোনও শিল্প বিনিয়োগ অথবা কর্মসংস্থানের আশ্বাস মিলবে কী মিলবে না, রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে। তার পাশাপাশি, এই পোস্টার বিতর্ক এখন কতদূর গড়ায় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কী হয়, সেটাও এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications