নবান্নের শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন ডিজি, নির্বাচনী সন্ত্রাস প্রসঙ্গে ‘ক্রীতদাস’ কটাক্ষ অধীরের
রাজ্য পুলিশের ডিজির পঞ্চায়েত নির্বাচন বিষয়ক মন্তব্যকে শেখানো বুলি বলে কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, নবান্ন যা ঠিক করে দেয়, তা-ই বলেন ডিজি।
রাজ্য পুলিশের ডিজির পঞ্চায়েত নির্বাচন বিষয়ক মন্তব্যকে শেখানো বুলি বলে কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, নবান্ন যা ঠিক করে দেয়, তা-ই বলেন ডিজি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর ডিজি যে মন্তব্য করেছেন, তা একেবারেই ঠিক নয়। কোন দলের কত জনের মৃত্যু হল সেটা বড় কথা নয়, ভোট করতে গিয়ে মানুষ মারা গেল এটাই লজ্জার। মানুষের প্রাণ চলে গেল এটাই আক্ষেপের।

তিনি আরও বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার সুনিশ্চিত করতে আমরা হাইকোর্টে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। তারপর রাজ্যে সন্ত্রাসের ভোট হয়েছে। আদালতও তা পর্যবেক্ষণ করেছে। কিন্তু তারপরও নবান্নের তরফে যে সাফাই দেওয়া হয়েছে, তা দুঃখজনক। বোমা-বারুদের গন্ধ ভোট হয়েছে। মানুষের প্রাণ গিয়েছে। আর পুলিশ-প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ তা রুখতে। তা-ই বড় হয়ে উঠেছে এবারের নির্বাচনে।
সোমবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ বলেন, রাজ্যে এবারের ভোট তুলনায় সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে। অন্য নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটে সন্ত্রাস কম হয়েছে। মৃত্যু সংখ্যাও কম। ভোট সন্ত্রাসে কাদের মত্যু হয়েছে, কাদের মৃত্যুকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সন্ত্রাস বলে চালানো হচ্ছে, তা তুলে ধরেন ডিজি।
এ প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এদিন রাজ্য পুলিশের ডিজির সমালোচনা করে বলেন, এই সন্ত্রাসের-ভোটের পর নবান্নে রাজ্য পুলিশের ডিজির মন্তব্য সত্যিই দুঃখজনক। নবান্ন যা শিখিয়ে দিচ্ছে, তাই বলছেন ডিজি। ডিজি শাসক দলের ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছেন। তিনি এদিন নির্বাচনী সন্ত্রাস নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন।
এদিন নির্বাচনে লাগাতার খুন, জখম, ভোট লুঠ, সন্ত্রাস, মারামারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ও পুলিশ একযোগে আক্রমণ চালিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা সঠিক ছিল না। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচন রক্তাক্ত হওয়া থেকে আটকানো গেল না। রাজ্যের এই ভোটচিত্রে বাংলার মানুষ হিসেবে মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications