বিজেপির বাড়বাড়ন্তে হাত মমতার! ফেসবুকে বোমা ফাটালেন কংগ্রেস নেতা, বার্তা রাহুলকে
রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিলেন কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র। প্রবল তৃণমূল-বিরোধী বলে পরিচিত এই কংগ্রেস নেতা মনে করেন, রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্তের জন্য মমতা
রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিলেন কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র। প্রবল তৃণমূল-বিরোধী বলে পরিচিত এই কংগ্রেস নেতা মনে করেন, রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্তের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দায়ী। তাঁর সৌজন্যেই বিজেপি বিস্তার লাভ করছে। তা না হলে অন্যরাজ্যে যখন বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই কমছে, এ রাজ্যে বাড়ছে কী করে, প্রশ্ন ছুড়ে দেন কংগ্রেস নেতা।

তিনিই এ প্রশ্নের উত্তরে আবার বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলতে পারবেন, কেন এ রাজ্যে বিজেপি বাড়ছে। এজন্য দায়ী মমতার গেরুয়া-প্রেম। আজও মমতার গেরুয়া-প্রেম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওমপ্রকাশ মিশ্র। যতই তিনি ২০১৯-এর লোকসভায় বিজেপি বিরোধী জোট গড়ার আহ্বান জানান, সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলেক এক ছাতার তলায় এসে লড়াইয়ের কথা বলুন, বিজেপি-তৃণমূলের গোপন আঁতাত রয়েছেই।
ওমপ্রকাশ মিশ্রের কথায়, সারদা-নারদ কেলেঙ্কারির তদন্তে ধীর গতিই সবথেকে বড় প্রমাণ সারদা-নারদ কেলেঙ্কারির। তৃণমূলের সঙ্গে গোপন সমঝোতা রয়েছে বলেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তারপর ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে বেড়ে চলেছে আরএসএস। আরএসএসের বহু শাখা-প্রশাখা, স্কুল বেড়েছে। এসব কী প্রমাণ করে, প্রশ্ন ছুড়ে দেন ওমপ্রকাশ। এমনকী নিজের ফেসবুক পেজেও এই কথা ফলাও করে লেখেন কংগ্রেস নেতা।
এ প্রসঙ্গে আরও একটি কথা উল্লেখ করেন ওমপ্রকাশ মিশ্র। তিনি বলেন, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই বিজেপি তাঁদের বন্ধু। এনডিএ শরিকও ছিল তৃণমূল, আবার মন্ত্রীও হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই গোপন আঁতাত থাকা অস্বাভাবিক কিছুই নয়। এরপর ২০১৬ সালে খড়গপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির বিপুল জয়েও তৃণমূলের সঙ্গে আঁতাতের কথা স্পষ্ট করে।
তৃণমূল ভোট ভাগাভাগির খেলায় লাভবান হতেও বিজেপিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এখনও কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল বাড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। বাম-কংগ্রেসকে দুর্বল করে বঙ্গে বিজেপিকে বাড়িয়ে বিরোধীদের কোমর ভেঙে দেওয়াও তৃণমূলের একটা পরিকল্পনা হতে পারে।
কংগ্রেস হাইম্যান্ড যখন তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি বিরোধী মহাজোট গড়ে ২০১৯-এ বিজেপির বিরুদ্ধে মহাসংগ্রামে নামতে চাইছে, তখন বঙ্গের কংগ্রেস নেতার তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্বন্ধে এই ধারণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, সম্প্রতি দিল্লিতে প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে জনে জনে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে মন বুঝতে চান। এই বৈঠকে কংগ্রেস কার্যত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। একদল তৃণমূলের পক্ষে, অন্যদল সিপিএমের সঙ্গে জোটের পক্ষে রায় দেয়। এই অবস্থায় রাহুল গান্ধীর অবস্থা শ্যাম রাখি না কুল রাখি।












Click it and Unblock the Notifications