কংগ্রেসের পাখির চোখ ২০২৪-এ, মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী না দিয়ে কীসের বার্তা সোনিয়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না কংগ্রেস। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর প্রদেশের প্রস্তাব খারিজ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে ২০২৪-এর বার্তা পাঠিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না কংগ্রেস। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর প্রদেশের প্রস্তাব খারিজ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে ২০২৪-এর বার্তা পাঠিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেস বুঝিয়ে দিয়েছে, বাংলার এই উপনির্বাচনের থেকেও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন তাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বের।

সংশয় ছিল বাংলায় কী সমীকরণ হবে?
একুশের নির্বাচনের সময় থেকেই মমতা-সোনিয়া একসঙ্গে চলার কথা বলতে শুরু করেছিলেন। তারপর ভোট পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে কথা বলেছেন সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। সংসদে বিজেপির মোকাবিলায় জোট-বৈঠকে কংগ্রেস-তৃণমূলকে দেখা গিয়েছে একসঙ্গে। তারপর ২০২৪-এ যে কংগ্রেস ও তৃণমূল এক জোট হয়ে ময়দানে নামবে, তা স্পষ্ট ছিলই। সংশয় ছিল বাংলায় কী সমীকরণ হবে তা নিয়ে?

কংগ্রেস ভবিষ্যতের বার্তা দিয়ে রাখল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দিয়ে সোনিয়া গান্ধী এরপ্রকার স্থির করে দিলেন কংগ্রেসের চলার পথ। কংগ্রেসের কাছে সিপিএমের সঙ্গে জোটধর্ম বজায় রাখার থেকেও বড় দিল্লির কুর্সিতে থেকে বিজেপিকে হটানো। তাই মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরত থেকে কংগ্রেস ভবিষ্যতের বার্তা দিয়ে রাখল। জোট রাজনীতিকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন।

কংগ্রেস সভানেত্রীর সিদ্ধান্তে সৌজন্য
কংগ্রেস সভানেত্রীর সিদ্ধান্তে সৌজন্য প্রকাশের বার্তাও ছিল। এবার দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে পাল্টা সৌজন্য দেখানো হয় কি না। তাহলেই ২০২৪-এর সমীকরণ জোরদার হবে। তৃণমূল উত্তর-পূর্বে শক্তিশালী হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, কংগ্রেস যদি উত্তর থেকে দক্ষিণ শক্তিধর হয়ে উঠতে পারে, তবে বিজেপি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী হতে বাধ্য।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী নয় কংগ্রেসের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একুশের নির্বাচনে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও সেই মত পোষণ করেন। ফলে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সিংহভাগ নেতাদের প্রস্তাব খারিজ হয়ে গেল। বামেদের সঙ্গে জোট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটে লড়তে চাওয়া প্রদেশ কংগ্রেসের সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় এআইসিসি।

বাম-কংগ্রেস জোটের ভবিষ্যৎ দেখছেন না সোনিয়া-রাহুলরা
কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়া এবং প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই বামেরা ভবানীপুরের প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এর ফলে বাংলায় বাম-কংগ্রেস তথা সিপিএম-কংগ্রেস জোট ভেঙে যেতে পারে। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড এখন এই জোটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না। কেননা বাম-কংগ্রেস জোটের সেভাবে কোনও ভবিষ্যৎ দেখছেন না সোনিয়া-রাহুলরা।

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যতার পথ নিয়েছে কংগ্রেস
একুশের নির্বাচন কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বামেদের সঙ্গে জোট করে কোনও ফায়দা হয়নি। ফায়দা হলে কংগ্রেস বাংলার বিধানসভা থেকে মুছে যেত না। কংগ্রেসের অস্তিত্ব সংকট তৈরি হত না বাংলায়। এবার তাই কংগ্রেসকে অন্য পথ ভাবতে হচ্ছে। আর তা হল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যতার পথ।

তৃণমূল কংগ্রেসের কোর্টে বল ঠেলল কংগ্রেস
কংগ্রেস ও তৃণমূল উভয়ের নিউক্লিয়াস একই। একই ঘরানার দুটি দল। তাই তারা যদি একসঙ্গে চলে পথ অনেক মসৃণ হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরত থেকে সোনিয়া গান্ধীর তরফে সেই বার্তা পাঠানো হয়েছে। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের কোর্টে বল। তারা কংগ্রেসকে নিয়ে কী ভাবছে, তা জানানোর সময় এসেছে এবার।

অধীর-গড় মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রে তৃণমূলের কী অবস্থান
একইসঙ্গে ভবানীপুরে যখন কংগ্রেস বিরত থাকছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, তখন অন্য যে দুই কেন্দ্রে ভোট, সেখানে কী সমীকরণ দাঁড়ায় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। অধীর-গড় মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রে তৃণমূল কী অবস্থান নেয়, সৌজন্য রক্ষায় কংগ্রেসকে কোনও আসন তারা ছাড়ে কি না, সেটাই দেখার।

২০২৪-এর লক্ষ্য নতুন পথ খোঁজাই কংগ্রেসের লক্ষ্য
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে গতবারের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস একেবারে শূন্য হয়ে যায়। এমনকী অধীর চৌধুরীর জেলাতেও একটি আসনও তারা দখল করতে পারেনি। কেন এমন ফল হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। আইএসএফ ও সিপিএমের সঙ্গে সংযুক্ত মোর্চা গঠনই কি তাদের কাল হল, নাকি অহেতুক মমতা বিরোধিতা তাদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিল, তা বলবে ভবিষ্যৎ। আপাতত ২০২৪-এর লক্ষ্য নতুন পথ খোঁজাই তাঁদের লক্ষ্য।












Click it and Unblock the Notifications