কংগ্রেস-সিপিএম মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে চায়! দু-দলের প্রস্তাবে জোর জল্পনা
তবে কি কংগ্রেস ও সিপিএম প্রত্যাহার করে নেবে মনোনয়ন? পঞ্চায়েতের আগে কংগ্রেস-সিপিএমের জোট সওয়ালে রাজ্যে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে কি কংগ্রেস ও সিপিএম প্রত্যাহার করে নেবে মনোনয়ন? পঞ্চায়েতের আগে কংগ্রেস-সিপিএমের জোট সওয়ালে রাজ্যে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমনকী সিরিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই জোট নিয়ে আলোচনাও হতে পারে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে সিপিএম ও কংগ্রেসে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দিয়ে পঞ্চায়েত ভোটে লড়তে পারে।

মঙ্গলবারই সিপিএম নেতা গৌতম দেব কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বার্তা দেন। পার্টি কংগ্রেসে সিপিএম কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বিষয়টিতে সিলমোহর দেয়। তারপরই গৌতমবাবুর এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি জানান কংগ্রেসের তরফে সিপিএমের সঙ্গে জোট গড়ে লড়তে কোনও অসুবিধা নেই তাঁদের।
গৌতম দেব বলেছিলেন, 'কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের বোঝাপড়ায় কোনও সমস্যা নেই। যেখানে আমাদের প্রার্থী নেই, সেখানে আমরা কর্মী-সমর্থকদের বলব ভোটটা কংগ্রেসকে দিন। প্রয়োজনে আমরা কিছু প্রার্থীপদও প্রত্যাহার করে নিতে পারি বোঝাপড়ার ভিত্তিতে।'

আবার উল্টোদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী জানিয়েছিলেন, 'গত বিধানসভায় সিপিএমের সঙ্গে জোট গড়ে আমরা গ্রহণযোগ্য শক্তি হিসেবে উঠে এসেছিলাম। কিন্তু ভোটের পর বামেরা জোট ভেঙে আলাদা এগোতে চাওয়ার পরই সমস্যা তৈরি হয়েছিল। গৌতমবাবুর প্রস্তাবে কংগ্রেস সম্মতি জানাচ্ছে।'

সম্প্রতি হায়দরাবাদ পার্টি কংগ্রেসে পার্টি লাইন ভেঙে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিপিএম প্রয়োজনে কংগ্রেসের হাত ধরে চলবে বলে ধার্য হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পরই বাংলার সিপিএম নেতা গৌতম দেব কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে সওয়াল করেছেন। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে এদিন রাজ্য কমিটির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, 'রাজ্যের বহু জায়গাতেই অলিখিত জোট হয়েছে। নেতৃত্বের সমাঝোতার দরকার হয়নি। মানুষই তাঁদের প্রয়োজনে বিরোধীদের জোট করে নিয়েছে। এই জোট তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনাস্থার জোট। মানুষ যদি সত্যিকারের জোট গড়ে, সেখানে কোনও শক্তিই তাঁকে আটকাতে পারবে না, আর তৃণমূল তো কোন ছাড়।'
এখন বাম-কংগ্রেস একত্রিত হয়ে ভোটে লড়াই করলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ আরও ভালোভাবে করা যাবে বলে বিশ্বাস কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃত্বের। একদিন আগেই রাহুল গান্ধীর কাছে রাজ্যের শাসকের বেলাগাম সন্ত্রাস নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন অধীর চৌধুরী।
তারপর ফের তিনি সক্রিয় হয়েছেন রাজ্যে বিরোধী জোট গড়ে তৃণমূলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে। অন্তত যে আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছেন বিরোধীরা, সেখানে শাসক প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলে দেওয়াই তাঁদের মুল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন অধীর চৌধুরী।












Click it and Unblock the Notifications