মুখ্যমন্ত্রীকে জেকিল অ্যান্ড হাইডের সঙ্গে তুলনা, আরজি কর কাণ্ডে মমতার সংবেদনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন বোসের
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার জনগণের বিশ্বাস হারিয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই মন্তব্য করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি বলেছেন, কলকাতার একটি হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সমাজের জন্য সব থেকে লজ্জাজনক মুহূর্ত।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরজি করের মৃত চিকিৎসকের ন্যায় বিচারের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে সমাবেশ করেছিলেন। সেই ঘটনার উল্লেখ করে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতিগুলি ছিল অলঙ্কারপূর্ণ।

- কী বললেন রাজ্যপাল
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্যপাল বলেছেন, বাংলা একটি প্রবাহিত অবস্থায় রয়েছে। সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়েছে ছাত্ররা। যুবকরা ভীত, মহিলারা হতাশার মধ্যে রয়েছেন। রাজ্যপাল বলেছেন, মহিলা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে হতাশার অনুভূতি। সরকারের যা করার কথা, নাগরিকদের রক্ষা করা, তা করছে না।
রাজ্যপাল সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে রোম পুড়ে যাওয়ার সময় নিরোর বাজনা বাজানোর ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
- পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা
রাজ্যপালের অভিযোগ সরকারের কাজ ও নাগরিকদের চাহিদার মধ্যে ফাঁক তৈরি হয়েছে। কলকাতা পুলিশকেও নিশানা করেছেন তিনি। রাজ্যপাল বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। একটি সমাবেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে অভিযোগ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইডের মতো। এখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী একই ব্যক্তি।
- সংবেদনশীলতার অভাব
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মৃত চিকিৎসকের পরিবারে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও নিশানা করেছেন। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মৃত চিকিৎসকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবার তা নিতে অস্বীকার করে। রাজ্যপাল এই প্রস্তাবকে অনুপযুক্ত বলে বর্ণনা করে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর বোধ ও সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেছেন, একজন তরুণ চিকিৎসকের মূল্যবান জীবনের মূল্য দেওয়াটা সত্যিই অমানবিক। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর জানা উচিত অর্থ নীরবতা কিনতে পারে না।
- কেন এই পরিস্থিতি
গত নয় অগাস্ট ভোরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বারোতম দিনে জুনিয়র চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। যে কারণে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাপকভাবে প্রাভাবিত হয়েছে। আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা ওই ঘটনায় ন্যায়বিচার এবং কর্মক্ষেত্রে বেশি নিরাপত্তার জন্য আইন প্রণয়নের দাবি করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications