অনেক দূরে শুনানি কেন্দ্র, চাইলেও যাওয়া কঠিন! বাংলার প্রান্তিক মানুষদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করল কমিশন
অনেক দূরে শুনানি কেন্দ্র! দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় ভুগছেন বহু মানুষ। কারও বাড়ি থেকে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য পঞ্চাশ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। আবার পাহাড়, জঙ্গল অথবা বিচ্ছিন্ন জনবসতিতে থাকা মানুষের কাছে তো সেই পথ আরও অনেক কঠিন। চাইলেও অনেকের পক্ষে SIR শুনানিতে হাজির হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছিল। আর সেই বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

এবার থেকে প্রত্যন্ত এবং দুর্গম এলাকার মানুষদের জন্য SIR-এর শুনানি স্থানীয় স্তরেই হবে। কমিশন এবার 'ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার' অথবা বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র চালুর অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ, SIR-এর জন্য আর দূরের কোনও এক কেন্দ্রে নয়, এবার থেকে শুনানি হবে মানুষের কাছে, তাদের এলাকায়।
সম্প্রতি রাজ্যের ১২টি জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO) এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখাও পর গতকাল সবুজ সংকেত দিয়েছে কমিশন। মূল উদ্দেশ্য একটাই, যেন পাহাড়, জঙ্গল অথবা প্রান্তিক এলাকায় বসবাসকারী মানুষ কোনও অসুবিধা ছাড়াই শুনানিতে অংশ নিতে পারেন।
সহজ ভাষায় বলা যায় যে, এই বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র মানে হল স্থানীয় অথবা আঞ্চলিক স্তরে তৈরি হওয়া বিশেষ কেন্দ্র। যেখানে আশপাশের এলাকার মানুষজন সহজেই পৌঁছতে পারবেন। দীর্ঘ পথ পেরোনোর ঝক্কি, যাতায়াতের খরচ অথবা শারীরিক অসুবিধা-সহ সমস্ত সমস্যার সমাধান করার জন্যেই এই উদ্যোগ।
ডিইও-দের প্রস্তাব অনুসারে, রাজ্যের মোট ১২টি জেলায় এই বিশেষ শুনানি কেন্দ্র তৈরি হবে। সেই জেলাগুলি হল- দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, নদিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা। এই সমস্ত জেলায় সবমিলিয়ে মোট ১৬০টি বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র খোলা হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, এই সমস্ত কেন্দ্রে নিরাপত্তার দিকটিও বিশেষ ভাবে নজরে রাখতে হবে। যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ভাবে শুনানি হয়, তার দায়িত্ব প্রশাসনের উপরে থাকবে। কোনও রকম বাইরের প্রভাব, চাপ অথবা হস্তক্ষেপ যাতে না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন মেনে সমস্ত শুনানি সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্তে সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষরা। যাঁদের কাছে এতদিন শুনানিতে পৌঁছনো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, এবার তাঁদের জন্য সেই পথ অনেকটাই সহজ হয়ে গেল।












Click it and Unblock the Notifications