বিচ্ছেদ এড়াতে শিবরাত্রিতে আসুন এই মন্দিরে, গাঁটছড়া বাঁধলেই দাম্পত্য সুখ অনিবার্য
বৈদ্যনাথ ধামে শিব-পার্বতীর মন্দিরে গাঁটছড়া বাঁধলেই আপনি হারিয়ে যাওয়া দাম্পত্য সুখ আবার লাভ করতে পারেন। এড়াতে পারেন বিচ্ছেদ।
বিয়ে হলেও দাম্পত্য সুখলাভ অতিশয় বিষমবস্ত। সংসার সুখের হওয়া কি এতই সহজ! দাম্পত্য কলহের জেরে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা বেড়েই চলেছে। দাম্পত্য সুখের গ্যারান্টি কেউই দিতে পারে না। কিন্তু আপনি যদি সত্যিই ফিরে পেতে চান দাম্পত্য সুখ, তবে আসুন বাবা বৈদ্যনাথ ধামে। এই মন্দিরের মাহাত্ম্য এখনও লোকের মুখে মুখে ফেরে।
বৈদ্যনাথ ধামে শিব-পার্বতীর মন্দিরে গাঁটছড়া বাঁধলেই আপনি হারিয়ে যাওয়া দাম্পত্য সুখ আবার লাভ করতে পারেন। এড়াতে পারেন বিচ্ছেদ। আজও ভক্তরা এই বিশ্বাসে শিবরাত্রির পুণ্যতিথিতে বিশেষ লোকাচার মেনে এই মন্দিরে আসেন। লাল আর হলুদ কাপড়ের ফালিতে বাঁধা গাঁটছড়া বেঁধে মনের অভিলাষ পূর্ণ করেন।

মন্দির চত্বরেই পাণ্ডার তৈরি করেন গাঁটছড়া। ৫০ মিটারের এই কাপড়ের টুকরোই গ্যারান্টি দেবে দাম্পত্য সুখের। ৫০ বছরের জন্য আপনাদের বেঁধে রাখবে ওই গাঁটছড়া। বাবা বৈদ্যনাথ মন্দিরের চূড়া থেকে জয়দুর্গার মন্দিরের চূড়ায় গাঁটছড়া বাঁধার রেওয়াজ শিবরাত্রিতে আমলিন।
স্বামী-স্ত্রী অর্থাৎ দম্পতি লাল-হলুদের গটবন্ধন বাঁধেন। ডিভোর্স এড়াবার মোক্ষম দাওয়াই নাকি এই গাঁটছড়া। পাণ্ডা স্বপন চক্রবর্তী জানান, শিব-পার্বতীর মতো অমর বন্ধনের মনস্কামনা যাঁরা করেন, তাঁরা বিশেষ মন্ত্রপূত গাঁটছড়া বাঁধলে তা পূরণ হয়। ভূ-ভারতে যেহেতু শিব-শক্তি একসঙ্গে কোথাও নেই তাই বিশেষ লোকাচারটি এখানেই রয়েছে।
আসানসোল রেলডিভিশনের আওতায় বৈদ্যনাথ ধাম। আাসনসোল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে এই দেওঘর বা বৈদ্যনাথ ধাম একসময় বাংলার মানভূম জেলার অর্ন্তভুক্ত। পরে তা বিহারে বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে চলে যায়। তবে মন্দিরের মূল পুরোহিত ও পাণ্ডারা বংশ পরম্পরায় সব বাঙালি। শিব ও শক্তি একসঙ্গে বিরাজমান এখানে।
একদিকে দ্বাদশ জোর্তিলিঙ্গের অন্যতম মনস্কামনা লিঙ্গ আর অন্যদিকে শক্তিপীঠ এখানে মুখোমুখি।পুরাণ মতে, সতীর হৃদয় পড়েছিল এখানে। এখানকার মন্দিরটি তাই জয়-দুর্গা নামে খ্যাত। কৈলাশ পর্বত থেকে জোর্তিলিঙ্গ লঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার পথে লঙ্কেশ্বর রাবণ এখানেই নামিয়ে ফেলেছিলেন। সেইথেকে শিবলিঙ্গটি বৈদ্যনাথ নামে খ্যাত।
কলকাতা থেকে ভক্তরা ট্রেনে সরাসরি চলে আসেন যশিডি স্টেশনে। সেখান থেকে অটো করে কুড়ি মিনিটের পথ। অবলীলায় পুজো দিয়ে ফিরে আসেন ভক্তিভরে। উপবাস যদি সহ্য না হয় তবে দিনভর প্যাঁড়া খেয়ে পুজো করা যায় এখানে। এটাই এখানকার রীতি।
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ ও সতী পীঠের সমন্বয় এই বৈদ্যনাথধাম! শিবশক্তির বৈদ্যনাথ ধামে মহাধূমধামে মহা শিবরাত্রি হয়। এই দেওঘর বৈদ্যনাথধাম মন্দিরে শিবরাত্রিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। এবারও তার অন্যথা হল না। শনিবার সকাল থেকেই বাবা বৈদ্যনাথের অভিষেকায়ণ শুরু হয়। দুধ, ঘি, আবির দিয়ে শুরু হয়েছে পুজো অর্চনা। মহাযজ্ঞ চলে সারারাত ধরে। বৈদ্যনাথের বিয়েতে মূল আকর্ষণ ভূত বারাতি। সারা শহরের মানুষ এদিন ভূত সেজে ঘুরে বেড়ান।
এদিন পুরুষরাও পুজো দেন বাবা বৈদ্যনাথকে। বিশেষ লোকাচারে প্যাঁড়া আর ছোট্ট টোপর চড়িয়ে শিবরাত্রিতে পুজো হয় পুরুষদের মনস্কামনা পূরণে। অন্যান্য মন্দিরে শিবের ত্রিশুল থাকে। কিন্তু এখানে রয়েছে পঞ্চশুল। সেই পঞ্চাশুল শুক্রবার ধ্বজা বাধার জন্য নামানো হয়েছিল। আবার শনিবার তুলে দেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications