পাহাড়ে ধস, ফুঁসছে নদী! আটকে পড়া পর্যটকদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, মুখ্য সচিবকে বিশেষ আর্জি শুভেন্দুর
প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ। কোথাও নেমেছে ধস। কোথাও ফুঁসছে নদী, ভেঙেছে ব্রিজ। বাড়ছে মৃত্যুমিছিল।
কাল বিকেলেই শিলিগুড়িতে পৌঁছে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ।

একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল রাতে ১২ ঘণ্টা ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পাহাড়ে। মিরিক, দার্জিলিং, কালিম্পংয়ে সাতটি ধসের ঘটনা ঘটেছে। মিরিক ও দার্জিলিংয়ে আয়রন ব্রিজ ভেঙেছে। কালিম্পংয়ের রাস্তা বন্ধ। পর্যটকরা আটকে পড়েছেন। তাঁরা যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। প্রশাসন, সরকার দেখে নেবে তাঁদের যাতে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া না দিতে হয় বা তাঁদের চাপ না দেওয়া হয়। আমাদের রাজ্যে অনেক পর্যটক এসেছেন। তাড়াহুড়ো করবেন না। সব পর্যটককেই আমরা নিরাপদে ফিরিয়ে নিয়ে আসব।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন মারা গিয়েছেন। পুরো তথ্য এখনও নেই। মূল বিপর্যয় ঘটেছে মিরিকেই। রঙ্গীত, তিস্তা, সংকোশের জল বেড়েছে। জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে, ২-৩টি ব্রিজ নষ্ট হয়েছে। ধুপগুড়ি, নাগরাকাটা, মাল-সহ অনেক জায়গাতেই জল বেড়েছে, সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আমাদের রাজ্যে বাইরে থেকে জল আসে। কলকাতায় যেমন বৃষ্টি হয়েছিল, তেমনই হয়েছে পাহাড়ে। কলকাতায় আমরা জল ৬ ঘণ্টায় ক্লিয়ার করে দিয়েছিলাম।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রকৃতিকে অবহেলা করার ফল এমন ঘটনা। দার্জিলিং, কালিম্পিংয়ের পাহাড় স্ট্রং। তবে মিরিকে বেবি পাহাড়। আমরা দেখি পাহাড়ে কীভাবে খোদাই করে ঘর-বাড়ি তৈরি হয়। আগেও মিরিকে একটা ইনসিডেন্ট হয়েছিল। পাহাড় স্ট্রং হতে সময় লাগে। পাহাড়ে রাস্তাও সরু। সে কারণে গাড়ি আস্তে চালাতে বলা হয়। মিরিকে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। সেফ হাউসের বন্দোবস্ত করা হয়েছে টিম পাঠিয়ে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে যাতে অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে। যে পরিবারের লোকজন মারা গিয়েছেন তাঁদের ক্ষতিপূরণ, চাকরির বিষয়টি দেখে নেব। দুর্যোগে সকলের পাশে থাকা উচিত। আজ যেহেতু কার্নিভাল রয়েছে, একশোর বেশি ক্লাব অংশ নেয়, সেখানে আমরা না থাকলে খারাপ দেখায়। প্রোগ্রাম আমাদের সবাইকে ঘিরে। এটি বাংলার ঐতিহ্য। সে কারণেই কাল উত্তরবঙ্গে যাব।
দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিভিসি জল ছেড়েছে, ঘাটাল ভাসছে। হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়াতেও প্লাবন পরিস্থিতি। এত বেগে জল ছা়ড়ছে যে সব উড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলার অবস্থা নৌকার মতো। ৫-৬টা রাজ্যের জল হজম করতে হয়। ঘাটাল লো ল্যান্ড। সবার আগে সেখানে জল জমে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ২ বছরে কমপ্লিট করব। কলকাতা বন্দরে ২০ বছর ড্রেজিং করে না। ফলে সেখানে জল জমছে। ৭ আর ৮ তারিখ হাই টাইড রয়েছে। গঙ্গা যদি ভরে থাকে তাহলে জল বেরোবে কোথা থেকে। সারা পৃথিবীতেই ডিজাস্টার চলছে। উত্তরাখণ্ড, অসমে মানুষ মারা গিয়েছেন। ফ্লোরিডায় গ্লোবাল ক্যালামিটিজ দেখা গিয়েছে।
এদিকে, উত্তরবঙ্গের ঘটনায় মুখ্য সচিবকে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের আর্জি জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, "উত্তরবঙ্গে অবিরাম ভারী বৃষ্টির কারণে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংয়ের পার্বত্য অঞ্চলগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধস ও বন্যার কারণে শিলিগুড়ি, তরাই এবং ডুয়ার্সের সমতল ভূমির সাথে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শিলিগুড়ি ও মিরিক সংযোগকারী দুধিয়ার বালাসোন নদীর ওপরের লোহার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ ব্যবস্থার একটি উদাহরণ মাত্র। এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার বাসিন্দা আটকা পড়েছেন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পরিষেবা ছাড়াই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন।
প্রাণহানির খবরও আসছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে অবিলম্বে সম্পদ সংগ্রহ করে এই অঞ্চলগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, খাদ্য, জল, ওষুধ এবং অস্থায়ী আশ্রয় সহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, যাতে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা যায় এবং এই সংকটের আরও বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হয়। উত্তরবঙ্গের নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মঙ্গলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।"












Click it and Unblock the Notifications