১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে এসআইআরে, আশঙ্কা মমতার
এসআইআরের কারণে অনেক মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার হারানোয় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আজ এই মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির অজুহাতে ভোটার তালিকা থেকে আরও নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়ে যেতে পারে।

মমতার কথায়, "এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরেও গোপনে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি কেমন ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আমরা জানি না। এমনকি ১৪ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা জারি থেকেছে।"
মমতা বলেন, আমি ভোটারদের রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্ম দেখি না। আমি শুধু এটা নিশ্চিত করতে চাই যেন মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া না হয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত থাকে। আমি যে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার বিরোধিতা করি। চার-পাঁচ দিন আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ জারি হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যে তালিকা প্রকাশিত হবে তাতে নাম না থাকলে মানুষের কেমন লাগবে তা আমি কল্পনা করতে পারছি না। আমি এই মানস্তম্ভের সামনে তাঁদের জন্য প্রার্থনা করছি। দয়া করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে দেবেন না। যদি সমস্ত বৈধ ভোটারের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তবে আমি এই মানস্তম্ভের সামনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আবার এখানে ফিরে আসব।
এদিন ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাড়ে ১২ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী সাইকেল পেল। ১৪টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। বেশ কিছু শরণার্থী কলোনিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমরা ফুরফুরা শরীফে একটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল উদ্বোধন করেছি। বেশ কিছু মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব তৈরি করা হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা জুড়ে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে- সে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ৫০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক হোক, বাঁকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদীর উপর নতুন সেতু, ১২০টি নতুন সিএনজি বাস সংযোজন, অথবা মালদা শহরে ভূগর্ভস্থ কেবল নেটওয়ার্কের সূচনা।
মমতা বলেন, পবিত্র জৈন প্রার্থনা 'নবকার মহামন্ত্র' মানস্তম্ভে চারটি ভাষায় লেখা রয়েছে। জৈনধর্মের সঙ্গে বাংলার গভীর ও চিরস্থায়ী সম্পর্ক রয়েছে। ভগবান মহাবীর তাঁর যৌবন কালে বর্ধমান নামে পরিচিত ছিলেন। বর্ধমান জেলার নামকরণ তাঁর নামেই করা হয়েছিল, কারণ তিনি সেখানে তাঁর শৈশব কাটিয়েছিলেন। পুরুলিয়ায় বেশ কিছু জৈন মন্দির রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, সারা বাংলায় জৈন মন্দির ছড়িয়ে আছে। আমি বেশ কয়েকবার পরেশনাথ জৈন মন্দির পরিদর্শন করেছি। আমি গুজরাতি, পাঞ্জাবি, মারাঠি, ওডিয়া এবং অসমিয়া-সহ বেশ কয়েকটি ভাষা বুঝি। এই ভাষাগুলোর অনেক শব্দ বাংলার সঙ্গে মিলে যায়। মানস্তম্ভের শীর্ষে 'অহিংসা' শব্দটি লেখা আছে। মানস্তম্ভের সামনে যে ব্যক্তি নিজের অহংকার ত্যাগ করেন, তিনি শান্তি খুঁজে পান। মহাবীর জয়ন্তীতে আমি জৈন ভাই ও বোনেদের কাছ থেকে বার্তা পাই, যারা তাঁদের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বাংলায় স্কুলে প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়, তাই আমরা সব ধর্মের কথা জেনে বড় হই।
মমতা আরও বলেন, সল্টলেকে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে মাইনরিটি সেন্টার তৈরি করা হবে, যার জন্য জমি ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা হয়েছে। জৈন, শিখ, মুসলিম, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধরা সেখানে তাঁদের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবেন। অনেক পাঞ্জাবি ভাই ও বোনেরা সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বার গেট নির্মাণের অনুরোধ করেছিলেন এবং আমি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। পাঞ্জাবি, গুজরাতি, বিহারী এবং মারওয়াড়ি প্রায়ই আমাকে তাঁদের সুস্বাদু খাবার খাওয়ান। প্রতিটি ধর্ম ও সম্প্রদায়ের বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে। আমি রমজানের শুভেচ্ছা জানাই। হোলিও এগিয়ে আসছে। যেহেতু ধনধান্য স্টেডিয়ামে সবার জায়গা হওয়া সম্ভব নয়, তাই এবার হোলি উৎসব ২ মার্চ বিকেল ৪টেয় নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
মমতা বলেন, ভবানীপুর যেন একটি ছোটখাটো ভারত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষ ভবানীপুরে বসবাস করেন এবং সবাই শান্তিতে সহাবস্থান করেন। এখানে কেউ কোনও সমস্যায় পড়লে আমি ব্যক্তিগতভাবে তা সমাধানের চেষ্টা করি। মাঝে-মধ্যে অত্যন্ত ব্যস্ততার কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে পারি না। তবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আমি হস্তক্ষেপ করি। আপনারা সবাই দুর্গাপূজার সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। দীপাবলি এবং বৈশাখীর সময়ও আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন। আপনারা কি জানেন কেন আমি ভবানীপুর থেকে এতগুলো কর্মসূচির উদ্বোধন করলাম? মানস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে আমি নিজের অহংকার ত্যাগ করে সমাজসেবায় নিয়োজিত হতে চাই। সমাজের জন্য কাজ করতে পারার গর্ব নিয়েই আমি আবার ফিরে আসব মানস্তম্ভের সামনে। আমি আমার কোটা থেকে ২১ জন যুবকে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছি। প্রথম এক বছর তাঁরা প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে পাবেন। এক বছর পর তাঁরা গ্রুপ-ডি কর্মী হিসেবে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হবে। এই শুভ দিনে আমি কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছি।












Click it and Unblock the Notifications