আগরতলায় তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে হেনস্থা নিয়ে গর্জে উঠলেন মমতা, মোদীকে চরম কটাক্ষ
নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ, বিধায়কদের উপর হামলার আঁচ পড়েছে ত্রিপুরায়। আগরতলায় পুলিশের উপস্থিতিতেই বিজেপি নেতা-কর্মীরা তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। কিন্তু আগরতলা বিমানবন্দরে তাঁদের হেনস্থা নিয়ে এবার সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নাগরাকাটার ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক্স হ্যান্ডলের পোস্টের পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মমতা। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনেই কটাক্ষ করলেন মোদীকে। মমতার কথায়, আমাদের প্রতিনিধিদলকে বিমানবন্দরে আটকানো হয়েছে। ট্যাক্সি ড্রাইভারদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাইক ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমি বাগডোগরা থেকে বিমান ধরার আগে ওঁদের বলেছি, পায়ে হেঁটে যেতে। তাও অনুমোদন না দিলে আমি যাব। দেখা কত ঔদ্ধত্য। লোকতন্ত্র মানে না।
মমতা বলেন, নাগরাকাটায় বিজেপির বিধায়ক, সাংসদ। তাঁরা কেউ এলাকায় যান না। মানুষ বলছেন, ভোটের সময় ব্যাঙ্কে টাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, আর বন্যার সময় টাকা নেই! ভোটের কথা ভেবে রিলিফ নিয়ে ছুটছেন! নাগরাকাটার ঘটনায় আমাদের দোষ কোথায়? ভুল কিছু থাকলে আইন আইনের পথে চলবে। ত্রিপুরায় তো ডাবল ইঞ্জিন সরকার। অভিষেক (বন্দ্যোপাধ্যায়)-এর গাড়ি আগে ভেঙেছিল, পাথর মেরেছিল। তখন বয়ান, পরামর্শ কোথায় ছিল? দোলা সেন, সুস্মিতা দেব, মতুয়া এমপি, সাংবাদিকদের গাড়ি আক্রান্ত হয়েছিল। বিজেপি বলে সব মাফ! আর তৃণমূলের সময় ঝুটা বাত? আমাদের সাহায্য করেন না, আর হিংসা মদত দেন! চ্যারিটি বিগিবনস অ্যাট হোম।
মমতা আরও বলেন, আমি আহত সাংসদকে দেখতে গিয়েছি। কানের কাছে চোট রয়েছে। ডায়াবেটিক, অবজারভেশনে আছেন। তাঁর আরোগ্য কামনা করি। তবে ওখানে সব তো বিজেপির জনপ্রতিনিধি। ভিতরে কিছু বিষয় নেই তো? বন্যা, হিংসার ঘটনা ঘটলে মানুষের রাগ হতে পারে। তাঁদের সব কিছু চলে গিয়েছে। তদন্তে সব স্পষ্ট হবে। এমন বিপর্যয়ের পর নেতাদের যাওয়ার দরকার কী? তাও ৪০-৫০টি গাড়ির কনভয় নিয়ে। আমি তো ২-৩টি গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। কাজ করেছি। পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেছি, চেক দিয়েছি।
মমতা বলেন, এমন বিপর্যয়ের পর প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি করতে নামলে দুঃখ হয়। প্রথমে বললেন, ব্রিজ ভেঙেছে। কিন্তু জেনে রাখুন গুজরাতের মতো ব্রিজ ভাঙেনি। কলকাতায় একটি ব্রিজ ভেঙেছিল নির্বাচনের সময়। অনেক ব্রিজ ১০০-১৫০ বছরের পুরানো। মিরিকে আমরা পাকা নতুন ব্রিজ তৈরি করছি। সামনের বর্ষার আগেই রেডি হয়ে যাবে। ১৫ দিনের মধ্যে টেম্পোরারি ব্রিজ করে দিচ্ছি। বন্যা মোকাবিলায় আমাদের রাজ্যকে এক পয়সা দেননি কেন্দ্র। খালি বড় বড় কথা। আমিও অনেক মার খেয়েছি। পায়ে চোট লেগেছিল ভোটের সময়। তখনও অনেক বড় বড় কথা। আমি ছেড়ে দিই। ক্ষমা সবচেয়ে বড় কাজ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১০ জন উচ্চপদস্থ অফিসার রয়েছেন। উদ্ধার কাজ শেষ। এখন পুনর্বাসন, পুনর্গঠনের কাজ চলছে। আলিপুরদুয়ারে রয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, নাগরাকাটায় গৌতম দেবকে পাঠিয়েছি। আগামী সপ্তাহে আমি আবার যাব।
এদিকে, আগরতলায় বিমানবন্দরে বেশ কিছুক্ষণ ধরনা দেন তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। পরে তাঁদের গাড়ির বন্দোবস্ত হয়। দলীয় পার্টি অফিসে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। দেখা করেন ডিজিপির সঙ্গেও।












Click it and Unblock the Notifications