Mamata Banerjee: সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় নারীশক্তিকে চান মমতা, চাকরির প্রতিশ্রুতি, পুলিশের মনোবলও বাড়ালেন
Mamata Banerjee: সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আরও বেশি করে নারীশক্তিকে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অপরাধ বা অপরাধীকে চিহ্নিত করলে পুরস্কার থেকে চাকরির বন্দোবস্তেরও আশ্বাস দিলেন।
আজ বিকেলে আলিপুর বডিগার্ড লাইনে পুলিশের পুজোর উদ্বোধনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাড়ানোর চেষ্টা করলেন পুলিশদের মনোবল। সরাসরি নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যের নিশানা আরজি কর কাণ্ডের আন্দোলনকারীরা কিনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

দিন-রাত, রোদ-জল উপেক্ষা করে পুলিশকে ডিউটি করতে হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,আপনারা অনেক কাজ করেন। বন্যা পরিস্থিতিতেও নানাভাবে মানুষের পাশে থেকেছেন। উৎসবের সময় আপনারা কাজ করতে পারেন পরিবার পাশে থাকে বলে। আপনারা নানা সময় পথে থেকে ডিউটি করেন। পরিবারের সদস্যরা বাকি সব কাজ দেখে নেন।
যদিও পুলিশের মনোবল বাড়াতে গিয়ে মমতার দাবি, এত কাজ কেউ মনে রাখে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, হাজারটা কাজের মধ্যে একটু ভুল-ত্রুটি অজানাভাবে, অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে যেতে পারে। তা নিয়ে অনেক উল্টোপাল্টা কথা বলা হয়। কুৎসা, চক্রান্ত করে অপপ্রচার চলে। তবে মনে রাখবেন, আর্মির যে সম্মান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর যা সম্মান, তার মতো সম্মান রয়েছে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের। কিছুটা বেশিই। সরকার আপনাদের সঙ্গে রয়েছে।
মমতা বলেন, এমারজেন্সি ডিউটি পুলিশের। এখন তো শুনছি রস্টার ডিউটি! ইচ্ছেমতো রস্টার হচ্ছে। পুলিশের সে সব নেই। সব সময় পুলিশ সমাজের উৎসবে মানুষের ভালোর জন্য নিয়োজিত। আমরা উইনার্স বাহিনী তৈরি করেছি, আরও বাড়াব। চাই আরও বেশি করে মেয়েরা পুলিশের কাজে আসুক। দু-একটা ঘটনা যদি ঘটে, মনে রাখবেন ইচ্ছে করে কেউ ঘটায় না।
সাইবার ক্রাইম নিয়ে বলতে গিয়ে মমতার কথায় এদিনও উঠে আসে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা। তিনি বলেন, আমার ছবি, শরীর দেখছেন, আমার গলায় আমার বক্তৃতাও শুনছেন। কিন্তু ওটা ফেক। অরিজিনাল নয়। এটাই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। সাইবার ক্রাইম এখন সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি যারা এটা করে তারাই মদত দিয়ে চলছে। ভিডিওতে ব্যবসা করছেন, মনে রাখেন না ধর্ষিতদের নিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল করা যায় না! এতে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে।
আরজি কর কাণ্ডে আন্দোলনকারী চিকিৎসরা নগরপাল-সহ পুলিশের অনেক পদস্থ কর্তার অপসারণ দাবি করেছিলেন। ট্রান্সফার করলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। মমতা সরাসরি আন্দোলনকারীদের কথা না বলেও বলেন, অপরাধ হলে পুলিশের কাছেই যেতে হয় সবার আগে। অন্য়ায় হলে শাস্তি হবে। কিন্তু বিনা অপরাধে শাস্তি দেওয়া যায় না। আমিও দেখতে চাই, যারা অপরাধী তাদের শাস্তি হবে তো? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কথার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দাবির পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকেই নিশানা করে থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা এদিন বলেন, সাইবার অপরাধ দমনে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন মেয়েরাই। তাঁদের দায়িত্ব দিচ্ছি। এআই দিয়ে বানানো বা কোনও ফেক নিউজ দেখলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তার উপর লিখে দেবেন ফেক। তারপর পাঠাবেন সাইবার ক্রাইমে। যে মেয়েরা অপরাধীদের ধরবেন, ক্রাইমকে আইডেন্টিফাই করবেন তাঁদের জন্য ১০০টি পুরস্কার থাকবে। চাকরিও দেওয়া যেতে পারে। সাইবার ক্রাইম দমন মহিলাদের দ্বারাই সম্ভব। মমতা এদিন তাঁর বক্তব্যে নিজের ফোঁস তত্ত্বেও অনড় থাকেন। আঘাত-অত্যাচার মুখ বুজে পুরো না সইয়ে, রামকৃষ্ণের কথা মেনেই ফোঁস করার নিদান দেন মমতা।












Click it and Unblock the Notifications