বাংলায় ইতিহাস ভুলিয়ে দিয়ে চাইছে একদল, ‘অকালবোধনে’ সব রক্ষা করছেন মমতা
বাংলায় ইতিহাস ভুলিয়ে দিয়ে চাইছে একদল দানবীয় মানুষ। পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগরের ভিটেতে তাঁর দ্বিশতবর্ষ জন্মজয়ন্তীর সূচনা করে মমতা নাম না করে একহাত নিলেন বিজেপিকে।
বাংলায় ইতিহাস ভুলিয়ে দিয়ে চাইছে একদল দানবীয় মানুষ। পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগরের ভিটেতে তাঁর দ্বিশতবর্ষ জন্মজয়ন্তীর সূচনা করে মমতা নাম না করে একহাত নিলেন বিজেপিকে। কলকাতার বুকে মূর্তি ভেঙে কলঙ্কিত করা হয়েছিল বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীকে। সেই ঘটনার রেশ টেনেই মমতা বললেন, মুর্তি ভেঙে ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।

মমতা বলেন, একদল ধর্মান্ধ মূর্তি ভেঙে দিল। তাঁরা জানেও না হয়তো বিদ্যাসাগরের কথা। তাঁরা এভাবে মূর্তি ভাঙতে পারে, কিন্তু সংষ্কৃতি, বিশ্বাস, ভাবনা, আদর্শকে মুছে ফেলতে পারা যায় না। সেইসব অটুট থাকে। মুর্তি ভেঙেছে, তাই অকালবোধনের মতো বিদ্যাসাগরের মুর্তিও স্থাপন করতে হল।
মমতার কথায়, এই মূর্তি ভাঙায় বিদ্যাসাগরের মহিমা ক্ষুণ্ণ হল না। যাঁরা মূর্তি ভাঙলেন, তাঁরাই সম্মান হারালেন। মমতা বলেন, ওঁরা জানেন না যে সবার আগে নিজের মাটিকে সম্মান জানাতে হয়। মানুষকে সম্মান করতে হয়, তবেই সমাজে সম্মান পাওয়া যায়, সম্মানিত হওয়া যায়।
মমতা এদিন অমিত শাহের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, সব ভাষাকে ভালোবাসতে হবে। মাতৃভাষা নিয়ে গর্ব সবার আগে আমরা মাতৃভাষায় গর্বের সঙ্গে মানুষের কথা বলব। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও এনআরসি হবে না। কেউ ভয় পাবেন না। চিন্তার কোনও কারণ নেই।
কোনও মানুষকে বাংলা ছাড়া করতে পারবে না ওঁরা। মনে রাখবেন, বাংলার মাটিতে ভয় দেখানো যায় না। এসব রুটিন সেনশাস হচ্ছে। প্রতি দশ বছর অন্তর হয়। কিছু মানুষ ভয় দেখাচ্ছেন, কুৎসা-অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সবাই নির্ভয়ে থাকুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে এনআরসি হবে না। তিনি বলেন, স্বাধীন লোকেদের পরাধীন করে দেবে, কোনওদিন হয়নি, হবে না।
মমতা বলেন, মনে রাখবেন, সব ফুল দিয়ে মালা গাঁথা হয়। মরা সেভাবেই থাকব। কেউ আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
এদিনই বিদ্যাসাগরের ভিটেকে বাংলার পর্যটন মানচিত্রে জায়গা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শান্তিনিকেতন, জোড়াসাঁকো, নেতাজির বাড়ি, বিবেকানন্দের বাড়ির ধাঁচেই বিদ্যাসাগরের বাড়ি পর্যটন কেন্দ্র হবে। তিনি আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে নিতে বললেন। বিদ্যাসাগরের নামে গবেষণা কেন্দ্র করা হবে, ফেলোশিপ দেবে সরকার, শিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দেন মমতা।












Click it and Unblock the Notifications