প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এটা প্রত্যাশিত নয়! মোদীকে তুলোধনা করে হুঙ্কার মমতার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্ধমানে পাট্টা বিলি-সহ পরিষেবা প্রদান, বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসের মঞ্চ থেকে। দমদমের সভা থেকে মোদী বলেছিলেন, বাংলাকে কেন্দ্র টাকা দিলেও এখানে সব লুঠ হয়ে যায়। তারই জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা যেমন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে সম্মান করি, তাঁরও উচিত আমাদের চেয়ারগুলিকে সম্মান করা। উনি বললেন, বাংলায় সব চোর আছে বলে উনি টাকা বন্ধ করেছেন। আমি বলছি উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহারে ডাবল ইঞ্জিন সরকার সবচেয়ে বড় চোর। আগে চোরেদের দিকে তাকিয়ে দেখুন। বাংলাকে অসম্মান করতে ১৮৬টি টিম পাঠিয়েছিলেন। সব পঞ্চায়েত আমাদের নয়। নানা দলের। পঞ্চায়েত একটা পার্টির হয় না। ওদেরও বিধায়ক, সাংসদ আছে। গণতন্ত্রে সব দল থাকে। আমাদের কাছে যে প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছিল সব জবাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর দিলেও যদি শূন্য দেওয়া হয় তা কেউ মেনে নেবে? চোর, গদ্দারদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিটিং করেন। লজ্জা করে না? এদের দুই কান কাটা। তাই কান কাটার ভয় নেই।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে পরিযায়ী পাখির মতো আসেন বলে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, আমি তো চাই উনি ৩৬৫ দিন আসুন। বিমান, হেলিকপ্টার, রাস্তা, খাবার সব ফ্রি। মনে রাখবেন, আমি সরকার থেকে মাইনে নিই না। সাতবারের এমপি, মাসে আড়াই-তিন লাখ টাকা করে পেনশন পেতাম ১৪ বছর। এক পয়সা নিই না। সার্কিট হাউসে গেলে টাকা দিয়ে আসি। বই লিখে, গান লিখে সেই টাকা পাই। একা মানুষ কীসের দরকার। খাই তো এক বেলা। টাকা চাই না, মেধা চাই। আত্নসম্মান চাই। বাংলা মায়ের সম্মানে আঘাত আমার গায়ে লাগে। আমাকে যত গালি দিন, অপপ্রচার করুন, কুৎসা করুন, চক্রান্ত করুন, আমি লড়ে নেব। বুকের পাটা আছে। আগে বলতেন এখানে মমতাদিদি দুর্গাপুজো করতে দেন না। এখন নিজেই বলছেন, জয় মা দুর্গা। আমাদের চেয়ে বেশি গলার জোর নিয়ে। ভোট আসছে বলে।
ভিনরাজ্যে বাঙালিদের প্রতি হেনস্থা নিয়ে ফের সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের রাজ্যের ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক আছেন। তাঁদের এমনি নিয়ে যায়নি। সোনার কাজ, কাপড়ের কাজ তাঁরা ভালো করেন। তাঁদের জুটছে লাঞ্চনা, বঞ্চনা, অত্যাচার, অনাহার। একজনকে মুম্বইয়ে মারা হয়েছিল, তিনি মারা গিয়েছেন। সকলকে বলব চলে আসুন। এখানে কর্মশ্রীর সঙ্গে শ্রমশ্রী প্রকল্প চালু রয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন, আমাদের রাজ্যেও দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক আছেন। আমরা কারও গায়ে হাত দিই না, বরণ করি, সম্মান করি। তবে কেন ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, গুজরাতে হেনস্থা চলবে, দিল্লি, গুরগাঁওয়ে হোটেল নিতে গেলেও হেনস্থা করা হবে? দেশভাগের সময় বাংলাকে ভাগ করা হয়েছিল। পাঞ্জাবকেও। আন্দামানের সেলুলার জেলে রাখা হয়েছিল যে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের তাঁদের ৯০ শতাংশ ছিলেন বাঙালি। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলা যায় না। ভাষা সন্ত্রাস আমরা মানছি না। বাংলা কখনও মাথা নত করে না।
এদিন দুই বর্ধমান-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪টি জেলায় পাট্টা বিতরণ করা হলো। কন্যাশ্রী প্রকল্পের একাদশ পর্যায় শুরু হলো। মমতা বলেন, বাংলার মেধাকে বিশ্ব সম্মান করে। তাই তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোমরে শিকল বেঁধে গুজরাতের লোকজনকে ভারতে ফেরালেও বাংলার কাউকে সেভাবে পাঠানো হয়নি। নাসা থেকে ভাষা- বাংলার মেধা আছে। তাঁরা জানেন, বাংলার মেধা ছাড়া হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, কলম্বিয়া, সান ফ্রান্সিসকো চলবে না। এদিনের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজকর্মের খতিয়ান মুখ্যমন্ত্রী নিজে পড়ে শোনান।












Click it and Unblock the Notifications