লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি শুধু বাংলাতেই বলে দাবি মমতার, ভোটাধিকার কাড়ার প্রচেষ্টা রোখার আহ্বান
এসআইআরে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে নিজেদের জয় হিসেবেই দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। আজ কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে এই বিষয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তুলোধনা করলেন নির্বাচন কমিশনকে। মমতা বলেন, কথা বলার এবং সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। SIR-এর জাঁতাকলে পড়ে ১১০ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। বইমেলায় আনন্দ করার পাশাপাশি আমাদের সেই মানুষগুলোর যন্ত্রণার কথাও মনে রাখা উচিত, যারা প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে ধুঁকছেন।

তিনি বলেন, SIR-এ এই logical discrepancies নামক ব্যাপারটা শুধু বাংলাতেই হচ্ছে; দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এটা নেই। যদি তালিকায় আপনার নাম না থাকে, তবে দয়া করে যান এবং সাহায্য চান। আপনি কাউকে অথরাইজেশন লেটার দিয়েও পাঠাতে পারেন।
মমতার কথায়, ধরুন, আমি ইংরেজিতে লিখলাম 'মমতা ব্যানার্জি' আর বাংলায় 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়' তাতেই আমার নাম বাদ দেওয়া হবে! এটা অনেকটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর রবীন্দ্রনাথ টেগোর-এর মতো ব্যাপার। কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, একই বাবা-মায়ের পাঁচ সন্তান কী করে হয়? 'হাম দো, হামারে দো'-এটা তো নতুন ধারণা; আগে তো এমন ছিল না। এখন যদি আমাদের বাবা-মায়ের বার্থ সার্টিফিকেট দেখাতে বলা হয়, আমরা তো জানিই না তাঁরা কবে জন্মেছিলেন। আমরা তো বাড়িতেই জন্মেছি। এমনকি অটল বিহারী বাজপেয়ীজি একবার আমাকে বলেছিলেন যে ওঁর জন্ম ২৫ ডিসেম্বর নয়। আমি যখন আমার জন্মতারিখ জানতে পারি, তখন আমার বাবা মারা গিয়েছেন। আমি মাধ্যমিক পাস করে ফেলেছি। তখন তা বদলানোর না ছিল সময়, না ছিল কোনও উপায়। যা ছিল, সেটাই আমি মেনে নিয়েছি।
মমতার কথায়, আপনারা সবাই বোঝেন, আগে অনেক সময় তারিখ ভুল লেখা হতো। আমি বিস্তারিত বলছি না, নইলে নির্বাচন কমিশন আমার পেছনে লাগবে আর নাম বাদ দিয়ে দেবে, যদিও আমার কাছে মাধ্যমিকের রেজাল্ট আর অন্যান্য সব নথি আছে।
অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করার চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে? কবি জয় গোস্বামীকেও তলব করা হয়েছে। গতকাল আমি এক ডেন্টিস্টের ক্লিনিকে গিয়েছিলাম, সেখানে কর্মরত আটজনকেই তলব করা হয়েছে। আজ আমি এক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলছিলাম, শুনলাম সেখানকার সবাইকেও ডাকা হয়েছে।
মমতা বলেন, আগে মানুষ ঠিক করত কে ক্ষমতায় আসবে। এখন ভোটের আগেই নির্বাচন কমিশন সেটা ঠিক করার চেষ্টা করছে। ওরা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। এটা হতে পারে না। সবার প্রতিবাদ করা উচিত। আমার প্রতিবেশী বিপদে থাকলে আমি শান্তিতে থাকতে পারি না। অমর্ত্য সেন বা জয় গোস্বামীর মতো মানুষেরা সবার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন।












Click it and Unblock the Notifications