মুর্শিদাবাদ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি মানবে না, হুয়ায়ুনের সাসপেনশনের পরেই বহরমপুরে বললেন মমতা
মুর্শিদাবাদের মানুষ "দাঙ্গার রাজনীতি" কখনও মানবেন না। বহরমপুরের জনসভা থেকে এই মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের মতো মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে এদিনই সাসপেন্ড হয়েছেন তৃণমূলের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তারপরই এই মন্তব্য মমতার।

মমতা নির্দিষ্টভাবে হুমায়ুনের নাম উল্লেখ না করে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং এর তীব্র বিরোধী। তিনি জেলার বহুত্ববাদী ইতিহাস তুলে ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন সকলকে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা মুর্শিদাবাদের ইতিহাস ভুলতে পারি না। এখানে সিরাজ-উদ-দৌলা প্রতিটি ঘরে ঘরে শ্রদ্ধেয়। এই জেলা নবাবদের ভূমি। এখানে সব ধর্মের পবিত্র স্থান রয়েছে। মানুষ সিরাজকে মনে রেখেছে। মুর্শিদাবাদের জনগণ দাঙ্গার রাজনীতি গ্রহণ করবেন না।"
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ৬ ডিসেম্বর হবে বলে ঘোষণা করেন হুমায়ুন। তাতে জেলায় জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এদিন সকালেই তৃণমূল ভবন থেকে হুমায়ুনের সাসপেনশনের ঘোষণা করেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
মুর্শিদাবাদের বিধায়ক আখরুজ্জামান ও নিয়ামত শেখকে পাশে নিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, "হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক থাকবে না। যারা ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদকামী রাজনীতি করে, তাদের তৃণমূল কংগ্রেসে কোনো জায়গা নেই।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জনসভায় জোর দিয়ে বলেন, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে যে কোনও মূল্যে রক্ষা করা হবে। তিনি আরও বলেন, "মুর্শিদাবাদ বরাবরই ঐক্যকে সমুন্নত রেখেছে। এই সেই ভূমি যেখানে ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে যে বিশ্বাসঘাতকতা ধ্বংস ডেকে আনে এবং সম্প্রীতি শক্তি যোগায়। আমরা সেই সম্প্রীতি রক্ষা করব।"
মমতা আরও বলেন, "ওয়াকফ সম্পত্তি দখল হবে না; সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আমার দায়িত্ব।" মমতা অভিযোগ করেছেন যে, কিছু গোষ্ঠী ধর্মীয় সম্পত্তিকে ভূমি রেকর্ডে মসজিদ বা কবরস্থান হিসাবে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে মিথ্যা কথা রটাচ্ছে। তিনি বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে কিছু দুষ্কৃতী গুজব ছড়াচ্ছে যে রাজ্য সরকার কালেক্টর খতিয়ান নং ১-এর অধীনে ধর্মীয় স্থানগুলিকে মসজিদ বা কবরস্থান হিসাবে রেকর্ড করেছে। এটা মিথ্যা। প্রতিটি ধর্মেই কিছু বিশ্বাসঘাতক আছে যারা বিজেপির টাকা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ায়। মনে রাখবেন, এখন এআই-এর অপব্যবহার করা হচ্ছে। আমি যে কথাগুলো বলিনি, সেগুলো ছড়ানোর জন্য আমার মুখ ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা (পড়ুন বিজেপি) নোটবন্দি আর দুর্নীতি থেকে অনেক টাকা কামিয়েছে। তারা লুঠ করে আবার বলে 'ঝুট'!"
মমতা আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি কেন্দ্রে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলায় নথিবিহীন লোক ঢোকা নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে তিনি মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিজের গণনা ফর্ম এখনও পূরণ করেননি। তিনি বলেন, "আমি এখনও করিনি। আপনাদের সবার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই আমি তা করব। আমি মানুষকে সাহায্য করার জন্য প্রতিটি বুথে 'আমি কি সাহায্য করতে পারি' (May I Help You) ক্যাম্প খোলার নির্দেশ দিয়েছি।" সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোট ভাগের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে বিহার নির্বাচনের উদাহরণও টেনে এনে মমতা বলেন, "বিহারের প্রতিটি আসনে তারা চতুরতার সঙ্গে চারজন নির্দল প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছিল। এতে বিজেপির সুবিধা হয়েছিল। নির্দলরা ভোট কাটলে ক্ষতি আপনাদের এবং লাভ তাদের।"












Click it and Unblock the Notifications