মহাকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর, বাংলার পর্যটনকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার
শিলিগুড়িতে মহাকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মহাকাল মন্দির নির্মাণের জন্য আমরা একটি ট্রাস্ট গঠন করেছি। এই ট্রাস্টের প্রায় সব সদস্যই এখানে উপস্থিত আছেন। আমরা তাঁদের হাতে জমি হস্তান্তর করব। তাঁরাই এই ট্রাস্ট পরিচালনা করবেন।
তিনি বলেন, আমরা এই শিব মন্দিরের নাম দিয়েছি 'মহাকাল মহাতীর্থ'। আজ বাংলার মুকুটে আরও একটি নতুন পালক যুক্ত হলো। আগামী দিনে এই মন্দিরটি জগন্নাথ ধাম এবং দুর্গা অঙ্গনের মতোই একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

মমতা জানান, জমি ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা হয়েছে এবং টেন্ডারও ডাকা হয়েছে। জমি ভরাটের কাজ দ্রুত শুরু হবে। পুরো প্রকল্পটি শেষ করতে ২ থেকে ২.৫ বছর সময় লাগবে। আজ যে মন্দিরের শিলান্যাস হলো, তা হবে বিশ্বের বৃহত্তম শিব মন্দিরগুলোর মধ্যে একটি। শিলিগুড়ির কেন্দ্রস্থলে মাটিগাড়ার লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকায় ১৭.৪১ একর জমির উপর এটি নির্মিত হবে। প্রধান রাস্তা থেকেই মন্দির চত্বরটি দেখা যাবে এবং প্রতিদিন এখানে ১ লক্ষ মানুষ আসতে পারবেন।
মমতা বলেন, মূল মন্দিরের পাশাপাশি আমরা বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি তৈরি করছি। এই মূর্তিটির উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট। ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি মূল মূর্তিটির উচ্চতা হবে ১০৮ ফুট এবং যে ভিত্তির ওপর এটি স্থাপন করা হবে, সেটির উচ্চতাও হবে ১০৮ ফুট। এখানে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার তৈরির জন্য কোনও আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাকে আমরা বিনামূল্যে জমি দিতে প্রস্তুত। আগামী দিনে এটি ব্যবসার একটি বড় কেন্দ্রে পরিণত হবে।
মন্দিরের পেডেস্টাল ব্লকের ভেতরে দোতলা বিশিষ্ট একটি 'মহাকাল মিউজিয়াম' এবং সাংস্কৃতিক হল তৈরি করা হবে। মন্দিরের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে দুটি নন্দী গৃহ থাকবে। মন্দির চত্বরের সীমানা ঘেঁষে ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দিরও থাকবে। এখানে ভারতের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের রেপ্লিকা রাখা হবে। আপনারা এখানে পুরো ভারতবর্ষকে খুঁজে পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে দুটি প্রদক্ষিণ পথ থাকবে যেখানে একবারে ১০,০০০ তীর্থযাত্রী থাকতে পারবেন। একটি শিবালয়ের রীতিনীতি অনুযায়ী চার কোণে চারজন দেবতা থাকবেন। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ভগবান গণেশ, উত্তর-পশ্চিম দিকে ভগবান কার্তিক, উত্তর-পূর্ব দিকে দেবী শক্তি এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভগবান বিষ্ণু বিরাজমান থাকবেন। দুই পাশে দুটি সভা মণ্ডপ থাকবে যেখানে একবারে ৬,০০০ মানুষের জায়গা হবে। ফ্রেস্কো পেইন্টিং এবং পাথর খোদাই করা শিল্পের মাধ্যমে মহাকালের কাহিনী ফুটিয়ে তোলা হবে। এখানে রুদ্রাক্ষ কুণ্ড এবং অমৃত কুণ্ডও থাকবে, যেখান থেকে ভক্তরা পবিত্র অভিষেক জল সংগ্রহ করতে পারবেন। চত্বরের ভেতরে প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র, স্যুভেনিয়ার আর্কেড, ক্যাফেটেরিয়া, ডালা কমপ্লেক্স এবং পুরোহিতদের থাকার জায়গা থাকবে। এটি বাংলার পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং পাহাড় ও সমতলের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের বন্ধন সুদৃঢ় করবে। আমি বাংলার পর্যটনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাব।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি কনভেনশন সেন্টার গড়ে তোলা হবে। আমরা এই অঞ্চলটিকে একটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করব। এটি ধর্মীয় পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক মিলনস্থল হয়ে উঠবে। শিলিগুড়ি এখন থেকে কেবল যাতায়াতের পথ হয়ে থাকবে না; এটি ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পর্যটন এবং ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত হবে। এর ফলে স্থানীয় কারিগররা সারা বছর কাজের সুযোগ পাবেন। অনেক দোকান তৈরি হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং হোটেল শিল্পেরও উন্নতি হবে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলায় কথা বলার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গে মমতা বলেন, আমরা আমাদের রাজ্যে এমনটা করি না। আমরা সবাইকে ভালোবাসি। একতাই আমাদের শক্তি। অসম, রাজস্থান, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ বা বিহার, সব জায়গাতেই বাঙালিদের মারধর এবং গণপিটুনির শিকার হতে হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications