প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতার চিঠি, ক্ষোভের কেন্দ্রে সেই শুভেন্দুই
চ্যালেঞ্জ ছিল দু-তরফেই। কিন্তু একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর (suvendu adhikari) কাছে হেরে গেলেও তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যাওয়াকে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
চ্যালেঞ্জ ছিল দু-তরফেই। কিন্তু একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর (suvendu adhikari) কাছে হেরে গেলেও তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যাওয়াকে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথাও মেনে নিতে পারছেন না, এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে পাঠানো চিঠিতে সেটাই ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বৈঠকে উপস্থিত হওয়া শুভেন্দু অধিকারীকে শুধুমাত্র স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বৈঠকে আমন্ত্রিতদের তালিকা
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অফিসের তরফে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কলাইকুন্ডার বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় থাকা দুই মন্ত্রী। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেই খবর পাওয়ার পরেই নবান্ন থেকে বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।

মমতার কাছে শুভেন্দু শুধুমাত্রই স্থানীয় বিধায়ক
এদিন প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরমে-গরমে বিভিন্ন বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। জানিয়েছেন কঠিন পরিস্থিতিতে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য সরকার ছাড়তে পারবে না। কেন্দ্রীয় সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। সঙ্গে সেই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়টা স্বাভাবিক। পাঁচ পাতার চিঠির তৃতীয় পাতায় তিনি শুভেন্দু অধিকারীর নাম না নিয়ে বলেছেন, বিজেপির এক স্থানীয় বিধায়ককে বৈঠকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কেন্দ্রের তরফে শুভেন্দু অধিকারীকে ওই বৈঠকে যে বিরোধী দলনেতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তা মানতে চাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, গত ৪০ বছরে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে এই ধরনের কোনও উপস্থিতি ছিল না। ওই বৈঠকে স্থানীয় বিধায়কের উপস্থিতি তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর আলাদা বৈঠক চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী
বৈঠকে রাজ্যপালের পাশাপাশি দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকেও আহ্বান জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে বলেছেন, সংবিধানগতভাবে এই ধরনের বৈঠকে রাজ্যপালের কোনও পদক্ষেপ না থাকলেও, তাঁর (রাজ্যপাল) উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি ছিল না। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই, রাজ্যের মুখ্যসচিব প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর কোনও আলাদা বৈঠকের ব্যবস্থা করার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর করা বৈঠকের আগেই যাতে সেই বৈঠক করা যায় কিনা, সেচেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু এব্যাপারে কোনও রকমের সাড়া পাওয়া যায়নি, চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দিয়েছে বিধানসভা
গণ্ডগোলটা যে তাঁকে নিয়েই তা বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২৯ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের দিন কলাইকুন্ডার বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত জানানোর পরেই ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উচিত রাজ্য বিধানসভার সচিব তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মর্যাদা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন ১৯ মে। এবিষয়ে অধ্যক্ষের মত না থাকলে বিধানসভা কোনও চিঠি দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

নিশানা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে
২৯ মে শুভেন্দু অধিকারী নিশানা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন আইএএস-আইপিএসদের প্রোটোকল না মানতে বাধ্য করেন, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতাকেই অপমান করেন। তিনি বলেছিলেন, আগেও দেখা গিয়েছে বিরোধী প্রতিনিধিদের সরিয়ে রেখে, তাঁদেরকে বাদ দিয়ে, মানবাধিকার কমিশনকে বাদ দিয়ে , এসসি-এসটি কমিশনকে বাদ দিয়ে কাজ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জেলায় জেলায় গিয়ে এভাবেই কাজ করতে অভ্যস্ত বলেও মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রীত্বের সময়ে জেলায় জেলায় যেসব প্রশাসনিক বৈঠকগুলি করেছিলেন, সেখানে বিরোধীদলের সাংসদ-বিধায়করা আমন্ত্রণ পেতেন না বলে অভিযোগ উঠেছিল।












Click it and Unblock the Notifications