বুদ্ধ-জ্যোতিবাবুরা যা পারেননি অবলীলায় তা করে দেখালেন মমতা, স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় বাংলা
মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে রাজ্যে বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন ব্রিটিশ ধনকুবের লক্ষ্মীনিবাস মিত্তাল। আর তাতেই বাংলা আশাবাদী হয়ে উঠেছে।
ম্যাজিকের নাম মমতা। অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যেন। যে মনের জোরকে পাথেয় করে কন্যাশ্রীকে তিনি বিশ্বসেরার মুকুট পরিয়েছিলেন, সেই ইচ্ছাশক্তির জোরেই এবার বাংলায় লগ্নি আনতে মিত্তলদেরও প্রায় রাজি করিয়ে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা অনেক চেষ্টা করেও পারেননি, ময়দানে নেমেই সেই কাজে সিদ্ধ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে রাজ্যে বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন ব্রিটিশ ধনকুবের লক্ষ্মীনিবাস মিত্তাল। আর তাতেই বাংলা আশাবাদী হয়ে উঠেছে। অবশ্য শুধু বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার ব্যাপারেই কথা দেননি তিনি। ইস্পাত টাইকুন ওই শিল্পপতি মমতাকে জানিয়েছেন রাজ্যে বিনিয়োগের ব্যাপারটিও তিনি ভেবে দেখছেন। হলদিয়ায় লগ্নির ব্যাপারে বিলেত সফর থেকে আশার আলো দেখতে পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলার আশা, মিত্তল-গোষ্ঠী যদি বাংলার শিল্পে লগ্নির সম্ভার নিয়ে আসেন, তবে রাজ্যের শিল্পের ছবি আমূল পরিবর্তন হয়ে যাবে। শিল্প খরা কেটে আবার সোনার বাংলার লক্ষ্মীলাভ হবে। সেই লক্ষ্যেই বাংলা তাকিয়ে রয়েছে আসন্ন বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনের দিকে। এবার আক্ষরিক অর্থেই বিশ্ববঙ্গ সম্মেলন চাঁদের হাটে রূপান্তরিত হচ্ছে।
লন্ডন থেকে আসছেন লক্ষ্মীনিবাস মিত্তাল, মুম্বই থেকে মুকেশ আম্বানি, সজ্জন জিন্দাল। এছাড়া ইউকে-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তত দশজন শিল্পপতিও আসছেন বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনে। থাকবেন মুম্বইয়ের শিল্পপতিরাও। সাকুল্যে মমতা মুম্বই ও বিলেত সফর থেকে মুঠোভর্তি আশ্বাস নিয়ে ফিরছেন। তাঁর কিয়দংশ চরিতার্থ হলেই বাংলার শিল্পে জোয়ার আসবে।
মুম্বইয়ে যেমন ডাক পেয়েছিলেন আম্বানির, বিলেত সফরে গিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমন্ত্রণ পান মিত্তালের। সেইমতো মঙ্গলবার তিনি আমন্ত্রণ রক্ষা করতে লক্ষ্মীনিবাস মিত্তালের বাড়িতে যান। প্রায় দু-ঘণ্টা তিনি ছিলেন মিত্তাল নিবাসে। সেখানে উভয়ের মধ্যে বাংলার শিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে কথাবার্তা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিজনেস সামিটে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

সেই আমন্ত্রণ মেয়ে মিত্তাল কথা দেন তিনি আসবেন বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে যোগ দিতে। রাজ্যে বিনিয়োগের ব্যাপারেও তিনি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন বলে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। সামগ্রিকভাবে খুশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
লন্ডনে ইউকে-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠক থেকেও তিনি খুশির বার্তা নিয়ে ফিরছেন। হলদিয়ার লগ্নির ব্যাপারে আগ্রহী বিলেতের শিল্পপতিরা। খুব শীঘ্রই তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। বাংলার শিল্পের পরিবেশ যে পরিবর্তন হয়েছে, ব্রিটিশ শিল্পপতিদের তা বোঝাতে সফল হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications