কনভয় থামিয়ে ছিলেন বৃদ্ধ জনমজুর, ‘মানবিক’ মুখ্যমন্ত্রী গ্রামে গিয়ে খুঁজে নিলেন তাঁকে
মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, সভা থেকে ফেরার পথে তিনি দেখা করবেন। শুনবেন বৃদ্ধের কথা। সেইমতো ফেরার সময় একই জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে খুঁজে নিলেন বৃদ্ধকে।
তিনি কথা দিলে কথা রাখেন। এক বৃদ্ধ জনমজুর তাঁর কনভয় থামিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তখনই তিনি কথা দিয়েছিলেন, সভা থেকে ফেরার পথে তিনি দেখা করবেন। শুনবেন বৃদ্ধের কথা। সেইমতো ফেরার সময় একই জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে খুঁজে নিলেন বৃদ্ধকে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন তাঁর মেয়ের উচ্চশিক্ষার ভার নেবেন তিনিই।

সড়কপথে উত্তরকন্যা থেকে চ্যাংড়াবান্ধা যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুকূল কুড়ি নামে এক প্রৌঢ় তখন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য। আর মুখ্যমন্ত্রীরর কনভয় আসতেই তিনি পিছন পিছন ছুটতে শুরু করেছিলেন। তখনই মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থামিয়ে কথা দেন, তিনি দেখা করবেন, সমস্যার কথা শুনবেন।
সেইমতো ফেরার পথে জলপাইগুড়ির ফাটাপুকুরে গাড়ি দাঁড়ড করিয়ে অনুকূল কুড়ির খোঁজ করেন মুখ্যমন্ত্রী। খোঁজও মিলে যায়। মুখ্যমন্ত্রী গাড়িতে বসেই শোনেন তাঁর কথা। তিনি এলাকার পানীয় জলের দাবি জানানোর পাশাপাশি বলেন, আমি দিনমজুর। আমার মেয়ে এবারই উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছে। কিন্তু মেয়েকে ভর্তি করতে পারছি না। তা শুনেই মুখ্যমন্ত্রী বলে, মেয়ে ভর্তি হয়ে যাবে। ওর উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব আমার।
কে এই অনুকূল কুড়ি। তিনি একজন তিনশো টাকার রোজের দিনমজুর। দিন আনি দিন খাই অবস্থা। বৃদ্ধের মুখে সবকিছু শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন তাঁর নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর আধিকারিকদের নিয়ে রাখতে। তিনি ফের আশ্বস্ত করেন, আপনার মেয়ের পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব আমার। আশ্বস্ত হন অনুকূল কুড়ি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই লুকিংয় গ্লাসে লক্ষ্য করেন এক প্রৌঢ় ছুটছেন তাঁর গাড়ির পিছনে। তৎক্ষণাৎ ড্রাইভারকে নির্দেশ দেন গাড়ি দাঁড় করাতে। হাঁফাতে হাঁফাতে বৃদ্ধ এসে মমতার কাছে আবেদন জানান সাহায্যের। তাঁকে আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, অপেক্ষা করুন। মিটিং সেরে আসছি। তিনি কথা দিয়েছিলেন, তাই কথা রাখলেন ফেরার পথে।












Click it and Unblock the Notifications