মতুয়াদের অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে কেন্দ্র, বড়মার প্রয়াণ দিবসে সরব মমতা
কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে মতুয়া সম্প্রদায়কে "অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি"র মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আজ মতুয়া মাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি 'বড়মা' বীণাপাণি দেবীর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করে এই অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি দাবি করেন, যাঁরা দীর্ঘকাল ধরে দেশের নাগরিক, তাঁদের পরিচয় নিয়েই কেন্দ্র প্রশ্ন তুলছে এবং এসআইআর-এর মাধ্যমে তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

এক্স পোস্টে মমতা লেখেন, "এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চক্রান্তের কারণে আমাদের মতুয়া ভাই-বোনেদের এক অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতি করা হচ্ছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দেশের নাগরিক, যাঁদের ভোটে সরকার গঠিত হয়, তাঁদের আবার নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।"
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার মতুয়া সম্প্রদায়ের অধিকার ক্ষুণ্ণকারী যে কোনও পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, "এই অবিচার মানা হবে না। আমার মতুয়া ভাই-বোন ও বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে। বাংলার মানুষের কোনও ক্ষতি হতে দেব না।"
বীণাপাণি দেবীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর "ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক" এবং "মাতৃসুলভ স্নেহ" স্মরণ করেন। তিনি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, "বড়মা বীণাপাণি দেবীর প্রয়াণ দিবসে আমি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই। হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের দেখানো পথে মতুয়া মহাসঙ্ঘ বাংলার সমাজ সংস্কার ও নবজাগরণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।"
তিনি আরও স্মরণ করেন, "বড়মা সারা জীবন এই আদর্শগুলি লালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে মতুয়া মহাসঙ্ঘ সামাজিক সমতা ও ভ্রাতৃত্বের এক স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।" রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠন এবং উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।












Click it and Unblock the Notifications