বর্ষায় ভেঙে যাওয়া কাঁচা ঘর নিয়ে অভয়বাণী মমতার, ধান উৎপাদনে বাংলা দেশে প্রথম
এ বছরের বর্ষায় বহু কাঁচা ঘর ভেঙে গিয়েছে, ভেসে গিয়েছে। উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমি জেলাশাসকদের বলব ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলির তালিকা তৈরি করে মুখ্য সচিবের কাছে পাঠাবেন। এই জন্য আমরা আলাদা একটি প্রকল্প শুরু করব। রাজ্যে বর্তমানে যে ২৮ লক্ষ ঘর তৈরির কাজ চলছে, তার বাইরে হবে এই প্রকল্প। বর্ধমান থেকে এমনই আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লাগাতার বৃষ্টির মধ্যেই ডিভিসি যেভাবে জল ছাড়ায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে তাতে অসন্তোষ ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এদিন বলেন, আমরা ঘর তৈরি করব। সমস্ত কাঁচা ঘর পাকা করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার মনরেগা, গ্রামীণ সড়ক যোজনা, জলস্বপ্ন প্রকল্পে অর্থ দেওয়া বন্ধ করেছে। এসএসএম ও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অর্থও বন্ধ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প চালু করে সেই পরিষেবাগুলি চালু রেখেছে। আমরা ইতিমধ্যেই ৪৭ লক্ষ ঘর তৈরি করেছি। ১২ লক্ষ ঘরকে পাকা ঘরে রূপান্তরিত করার জন্য অর্থ দিয়েছি। বাকি ১৬ লক্ষ ঘরের জন্য ডিসেম্বর মাসে প্রথম কিস্তি এবং জুন মাসে দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১১ সালের পর থেকে সারা রাজ্যে ২.২৬ লক্ষ গৃহ পাট্টা, ১.৮০ লক্ষ কৃষি পাট্টা এবং ৪৭ হাজারেরও বেশি বনজমি পাট্টা প্রদান করা হয়েছে। শুধু পূর্ব বর্ধমানেই ২৮,৮৪০টি পাট্টা দেওয়া হয়েছে, ৮৩২টি উদ্বাস্তু পাট্টা এবং ১,৪৪৩টি বনজমি পাট্টা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও ২৪,০০০ পাট্টা প্রদান করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ সারা ভারতে ধান উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। আমি সবার প্রতি, বিশেষ করে কৃষকদের অভিনন্দন জানাই। কেন্দ্রীয় সরকার মনরেগা প্রকল্পের অর্থ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু আমি কর্মশ্রী প্রকল্প শুরু করেছি। এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ৭৮ লক্ষ মানুষ জব কার্ড পেয়েছেন। আমরা রাজ্য কোষাগার থেকে ১৯,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ৯১ কোটি কর্মদিবস সৃষ্টি করেছি। কন্যাশ্রী আমাদের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ওবিসি আসন সংরক্ষণের বিষয়ে আমরা সাধারণ শ্রেণির কোটার ক্ষেত্রেও কোনো কাটছাঁট করিনি। এর জন্য আলাদা তহবিল রয়েছে যাতে সাধারণ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা কোনও সমস্যার মুখে না পড়ে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সময় গ্রামীণ এলাকায় ৭৬ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৭৮ শতাংশ নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর জন্য আমরা ৩৮,০০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করেছি। আমরা জমি বিনামূল্যে দিয়েছি এবং এই পরিষেবার রক্ষণাবেক্ষণও করছি। এখনও আরও ৬৫,০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কেন্দ্র এখান থেকে কর আদায় করে কিন্তু আমাদের অর্থ ফেরত দেয় না। বর্তমানে জিএসটি ছাড়া আর কোনও কর নেই। পাঁচটি প্রকল্পের অর্থও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, অথচ আমরা সেগুলোও চালাচ্ছি। আমরা বলেছিলাম যে স্বাস্থ্য বিমার উপর থেকে জিএসটি তুলে দেওয়া উচিত এবং বিমা সংস্থাগুলিও যেন তাদের প্রিমিয়াম না বাড়ায়। এর ফলে আমরা ৯০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছি।
এই সভা শেষের পরেই ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আজ 'সবুজসাথী' প্রকল্পর একাদশ পর্যায়ের সাইকেল বিতরণ আমরা শুরু করলাম। আজ পূর্ব বর্ধমানে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে এর শুভ সূচনা করা হলো। এই পর্যায়ে, ২০২৫ সালে সরকারি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে এমন ১২ লক্ষ ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রী এই সাইকেল পাবে। এর জন্য আমাদের খরচ হবে ৫২৫ কোটি টাকা। আজই সারা রাজ্যজুড়ে ৫০ হাজারের বেশি সাইকেল বিতরণ করা হচ্ছে। বাকি সাইকেলও শিগ্গিরই দিয়ে দেওয়া হবে। ২০১৫-১৬ সালে চালু হবার পর থেকে সবুজসাথী প্রকল্পে, বিগত দশটি পর্যায়ে ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৩৮ লক্ষের বেশি সাইকেল আমরা দিয়েছি। মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। 'সবুজ সাথী' আমাদের বিশ্বজয়ী প্রকল্প। এর আওতায় বিনামূল্যে সাইকেল পেয়ে আমার ছাত্রছাত্রীদের খুব উপকার হয়েছে। স্কুলে যাবার পথে গাড়িঘোড়ার বাধা তাদের আর ভোগ করতে হয় না। এখন তারা সহজেই সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতে পারে। আমাদের সরকারের সময়কালে শিক্ষার সর্বস্তরে যে ড্রপ-আউট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে তার পেছনে এই প্রকল্পের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। আর একটি বড় ব্যাপার হল, আমাদের এই যুগান্তকারী প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে পরিবেশ-বান্ধব।
বর্ধমানের সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর দৃপ্ত ঘোষণা, আমরা বজ্রকণ্ঠে জয় বাংলা বলব। এটাই আমাদের স্লোগান। যতই আমাদের ঘৃণা করুন, ভাষা সন্ত্রাস আমরা মেনে নেব না।












Click it and Unblock the Notifications