পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি: অনিয়মের অভিযোগে বাংলায় একাধিক জায়গায় সিবিআই অভিযান
পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতিতে বাংলার বিভিন্ন এলাকায় সিবিআই অভিযান চালানো হচ্ছে বুধবার। অনিয়মের অভিযোগে বাংলায় একাধিক জায়গায় এদিন অভিযান চালান সিবিআই আধিকারিকরা। একইসঙ্গে একাধিক পুরসভায় সিবিআই হানা দিয়েছে রাজ্যজুড়ে। সিবিআই অভিযান অয়ন শীলের বাড়িতেও।
অভিযোগ সিভিক বডি নিয়োগে নানা অনিয়ম হয়েছে এবং একাধিক পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। সেই দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে বাংলায় সিবিআই অভিযান চালানো হয় বিভিন্ন পুরসভায়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলারই ১২টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তল্লাশি চালানো হচ্ছে হুগলির চুঁচুড়ায়।

সিবিআই যখন বলছে বাংলার বিভিন্ন নাগরিক সংস্থায় নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে, সেজন্য আমরা একসঙ্গে একাধিক স্থানে অভিযান চালাব। একযোগে দমদমের তিনটি পুরসভা দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, পানিহাটি, কামারহাটি, কাঁচরাপড়া, নিউ বারাকপুর, হালিশহর, শান্তিপুর-সহ মোট ১৪টি পুরসভায় তল্লাশি চলছে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত অয়ন শীলের চুঁচুড়ার বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাঁর বাড়ি ও অফিস তথ্যের খনি বলে মনে করছেন সিবিআই আধিকারিকরা। অয়ন শীলের এবিএস ইনফোজেনের অফিসে প্রচুর তথ্য আছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই তথ্যের খোঁজেই সেখানে গিয়েছেন আধিকারিকরা।
অভিযোগ, পুরসভায় নিয়োগ করা হয়নি, আসলে চাকরি বিক্তি করা হয়েছে। রেটকার্ড নিয়ে বিক্রি হয়েছে চাকরি। টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন অনেকেই। তাঁদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেইমতো সকাল থেকে উত্তেজনার পারদ চড়েছে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে।
সিবিআইয়ের ১০০ জন আধিকারিকরা ১৬টি দলে ভাগ হয়ে এই অভিযান চালাচ্ছেন। তাঁরা ১৪টি পুরসভা এবং অয়ন শীলের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালাচ্ছেন। ১১টার পর থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে। তল্লাশি অভিযান ও পুরসভাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে।

ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে ৬০টি পুরসভায় চাকরি বিক্রি হয়েছে। পুরসভায় দেদার চাকরি বিক্রি হয়েছে। পুরসভায় শ্রমিকদের চাকরি ও সাফাইকর্মীদের চাকরি দেওয়া হয়ছে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। গ্রুপ সি-র চাকরি দেওয়া হয়েছে ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। চাকরি বিক্রির টাকা অয়ন শীলের কাছে আছে বলেই ইডি সূত্রে দাবি। সেইমতোই সিবিআই অভিযান চালাচ্ছে।
পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, তল্লাশির নামে ত্রাস তৈরির চেষ্টা চলছে। অন্যায় না করলে ভয় পাব কেন। তদন্ত চললেই যদি পদত্যাগ করতে হয়, তাহলে তো রেল দুর্ঘটানর পর প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে এই জন্যই যে দেশটা গব্বর সিং চালাচ্ছে তা বোঝানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, পুরসভায় কার কীভাবে দুর্নীতি তা মন্ত্রীর জানার কথা নয়। সবটাই হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।












Click it and Unblock the Notifications