মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সমন জারি, কোন মামলায় হাজিরার নির্দেশ বিচারকের
সাংসদ তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির হয়ে বিচারকের সামনে সাক্ষ্য দান করেন। এরপর ভিডিও ও অডিও ক্লিপিংস খতিয়ে দেখে সমন জারি করে আদালত।
বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সমন জারি করল ব্যাঙ্কশাল আদালত। সোমবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রুজু করা মামলায় শুনানি শেষে বিচারক পূর্বা কুণ্ডু মুকুল রায়কে আগামী ২০ ডিসেম্বর হাজিরার নির্দেশ দেন আদালতে। ওইদিন বিচারকের সামনে সাক্ষ্য দিতে হবে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই নেতাকে।

এদিন সাংসদ তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির হয়ে বিচারকের সামনে সাক্ষ্য দান করেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয় মুকুল রায় কে, মুকুল রায়ের সঙ্গে কী তাঁর অসুবিধা, তিনি যে অভিযোগ এনেছেন আপনার বিরুদ্ধে, তা কি সত্যি?
একে একে সেইসব প্রশ্নের উত্তর দেন অভিষেক। অভিষেক বলেন, 'মুকুল রায় তাঁদের দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিজেপির একজন বড় নেতা। তিনি আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এনেছেন, তা সর্বৈব মিথ্যা। আমি একজন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর এই সব মনগড়া কথায় আমার মান-সম্মান নষ্ট হচ্ছে।'
অভিষেকের কথায়, 'আমার পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে আমাকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। আমার ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বহু সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত নানা খবর প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে সুবিচার পেতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এরপরই তিনি ১০ নভেম্বর বিজেপির ধর্মতলার সভার ভিডিও ও অডিও ক্লিপিংস পেশ করেন।
এরপর বিধায়ক স্মিতা বক্সির ছেলে সৌম্য বক্সিও অভিষেকের হয়ে আদালতে সাক্ষ্যদান করেন। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র ৩০ বছর বয়সেই জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। তিনি লোকসভার সাংসদ। তাঁর ভাবমূর্তি কলুষিত করতেই পরিকল্পিত চক্রান্ত করে মিথ্যা রটনা করা হচ্ছে।'
এরপরই ভিডিও ক্লিপিংস দেখে ও অডিও ক্লিপিংস শুনে মুকুল রায়কে পরবর্তী শুনানির দিন হাজির থাকার নির্দেশ দেন বিচারক। এই মর্মে সমন জারিও করা হয়। উল্লেখ্য সোমবারই আলিপুরদুয়ার আদালত দেওয়ানি মানহানির মামলায় মুকুল রায়কে আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও মুখ খোলার জন্য শোকজ করে। একদিন পরই ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করল।
মুকুল রায় এ প্রসঙ্গে জানান, 'তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। আগেও যা বলেছিলেন, এখনও তিনি একই কথা বলবেন। আদালতে উপস্থিত হয়েও একই কথাই তিনি জানাবেন। তাঁর কারণ তিনি বলছেন না, যা বলার বলছে তাঁর হাতের কাগজ। কাগজ ছাড়া তিনি একটি কথাও বলেননি। তাই দেশের যে আদালতেই বিচার হোক না কেন আমি তৈরি। কেননা আমি মিথ্যা অভিযোগ করিনি। যা অভিযোগ করেছি, তা সর্বৈব সত্য।'












Click it and Unblock the Notifications