Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ED 'চোর'! থানায় অভিযোগ দায়ের খোদ মুখ্যমন্ত্রীর, বিপাকে কারা? কেন এই পদক্ষেপ মমতার?

ED-র বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরকম ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। গতকালের টানটান পরিস্থিতির পর এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার শেক্সপীয়র সরণি থানা এবং বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় দুটি আলাদা আলাদা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ED

গতকাল সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল। দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলার সূত্র ধরে I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। আর ঠিক তার পরেই ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

ইডি আধিকারিকরা যখন প্রতীক জৈনের বাড়ির ভিতরে নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন, ঠিক সেই সময় আচমকাই সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হন। তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর ঘটনা এই রাজ্যে আগে কখনও দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় তিনি ওই অফিসেই অবস্থান করেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক সুজিত বসু এবং বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী।

সেই দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ইডি বেআইনিভাবে নিয়ে গিয়েছে। শুধু কাগজ নয়, ল্যাপটপ এবং মোবাইলে থাকা তথ্যও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ যে, কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই এই কাজ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার থানার দ্বারস্থ হলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।

প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশির ঘটনায় শেক্সপীয়র সরণি থানায় দুটি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে অভিযোগকারী মুখ্যমন্ত্রী নিজে। অন্য মামলাটি পুলিশ নিজের উদ্যোগে দায়ের করেছে। মামলার অভিযোগে চুরি, জোর করে বাড়িতে প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো ধারা যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে আবার, সেক্টর ফাইভে অবস্থিত I-PAC (Indian Political Action Committee)-এর অফিস সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়েছে বিধাননগর কমিশনারেটের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায়।

তবে, এই দুই অভিযোগেই কোনও নির্দিষ্ট ইডি আধিকারিক অথবা সিআরপিএফ জওয়ানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেছেন, "একজন ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এফআইআর করছেন। নিজের পদের মর্যাদা অন্তত রক্ষা করা উচিত।" তাঁর দাবি যে, আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে হারার ভয় থেকেই এরকম পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য যে, "এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা। আর কাউকে দিয়ে করাতে না পেরে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই থানায় গিয়ে অভিযোগ করলেন।"

সব মিলিয়ে, ইডি অভিযান, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ এবং পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই ঘটনার মোড় কোনদিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+