জঙ্গলমহলের পর নন্দীগ্রামে প্রচারের কথা ছিল ছত্রধরের, গ্রেফতারিতে শুভেন্দুকেই দায়ী স্ত্রীর
জঙ্গলমহলের পর নন্দীগ্রামে প্রচারের কথা ছিল ছত্রধরের, গ্রেফতারিতে শুভেন্দুকেই দায়ী স্ত্রীর
প্রথম দফার ভোট ফুরোতেই ছত্রধর মাহাতোকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই গ্রেফতারির জন্য ছত্রধরের স্ত্রী দায়ী করলেন শুভেন্দু অধিকারীকে। এর আগে বলেছিলেন তাঁর স্বামী বিজেপিতে যোগ দেননি বলেই গ্রেফতার হতে হল। আর এবার একেবারে নাম করে শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ী করে তিনি জানালেন কেন তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার হতে হল।

ছত্রধরের গ্রেফতারিতে শুভেন্দু অধিকারীর দিকে আঙুল
লালগড়ে ছত্রধরের মাটির দোতলা বাড়ির উঠোনে বলে স্ত্রী নিয়তি বললেন, জঙ্গলমহলের ভোট শেষে আমার স্বামীর নন্দীগ্রামে প্রচারে যাওয়ার কথা ছিল। উনি যাতে প্রচারে যেতে না পারেন, সে জন্য শুভেন্দু অধিকারীরা পরিকল্পনা করে এনআইএ-কে ব্যবহার করে আমার স্বামীকে গ্রেফতার করিয়েছেন। এই গ্রেফতারির পিছনে রয়েছে বিরাট ষড়যন্ত্র।

লালগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন স্ত্রী নিয়তি
ছত্রধরের স্ত্রী নিয়তি মাহাতো বলেন, আমাকে অ্যারেস্ট মেমো না দেখিয়েই আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকী কী কারণে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাও বলেননি। ছত্রধরের আইনজীবী জানান, এনআইএ-র বিরুদ্ধে লালগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নিয়তি। সেখানে অভিযোগ করেন, গামছা ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরা অবস্থায় ছত্রধরকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ছত্রধরের স্ত্রী ভয় পেয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন
নিয়তির এই অভিযোগ খণ্ডন করে ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির সভাপতি তুফান মাহাতো বলেন, এনআইএ একটি স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা। তারা কী করবে, সেটা তাদের বিষয়। ছত্রধরের স্ত্রী ভয় পেয়ে বিজেপিকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। এইসব অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও আঙুল তুলেছেন নিয়তি
এদিন ছত্রধররে স্ত্রী শুধু বিজেপি বা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আঙুল তুলেই ক্ষান্ত হননি। তিনি আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও। তাঁর অভিযোগ, ছত্রধর মাহাতো গ্রেফতার হওয়ার পর আর কোনও তৃণমূল নেতা যোগাযোগ করেননি। এমনকী লালগড়ের ব্লক সভাপতি শ্যামল মাহাতো, যাঁকে খুব স্নেহ করতেন ছত্রধর, তিনি পর্যন্ত আসেননি।

ওঁর পাশে আছি, দল ওঁর পাশে থাকবে, বলছে তৃণমূল
নিয়তি দেবী বলেন, একমাত্র জেলা তৃণমূলের কো অর্ডিনেটর অজিত মাহাতো রবিবার বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু জেলা সভাপতি বা অন্য কোনও পদাধিকারীরা আসেননি, খোঁজও নেননি। এ প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র সুব্রত সাহা বলেন, সদ্য ভোট মিটেছে, তাই খোঁজ নেওয়ার মতো ফুরসৎ পাইনি। দু-একদিনের মধ্যেই আমরা যাব। আমরা ওঁর পাশে আছি, দল ওঁর পাশে থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications