আলোকসজ্জা থেকে মন্ডপসজ্জায় জমজমাট জগদ্ধাত্রী পুজো, আদি মা থেকে বুড়ি মার পুজোর দর্শন সেরে নিন
আলোজসজ্জা থেকে মন্ডপসজ্জায় জমজমাট জগদ্ধাত্রী পুজো, ঘরে বসেই চাউলপট্টির আদি মায়ের দর্শন সেরে নিন
থিমের পুজো, আলোর ঝলকানি আর প্রতিমার মুখশ্রী। এই তিন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর উৎসব বিশ্বের দরবারে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বড়মা, মেজোমা ও ছোটমা। এই তিন মাকে নিয়েই চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিস্তার। এর মধ্যে চাউলপট্টিতে রয়েছে আদি মা বা বড়মা। মেজোমা হলেন পাশের কাপড়পট্টির প্রতিমা, আর ছোটমা ভদ্রেশ্বর গৌরহাটির তেঁতুলতলার বারোয়ারি পুজো।

জেনে নিন কীভাবে শুরু হয়েছিল কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর আরাধনা
কথিত আছে, কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ইংরেজদের আমলে বন্দি হয়েছিলেন। তিনি যখন ছাড়া পান, তখন দুর্গা পুজো অতিক্রান্ত। রাজা যখন নদীপথে কৃষ্ণনগরে ফেরেন, তখন শুধুই বিসর্জনের বিষাদের ঢাক ঢোলের বাজনা শুনতে পেয়েছিলেন। বন্দি দশার কারণে সেই বছর দুর্গাপুজো করতে না পারায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভেঙে পড়েন । জনশ্রুতি মতে এরপরই স্বপ্নাদেশে জগদ্ধাত্রী পুজো করার নির্দেশ পান তিনি। এরপর ১৯৬৬ সাল থেকে কৃষ্ণনগরে দুর্গাপুজোর বিকল্প হিসেবে জগদ্ধাত্রী পুজোর উৎসব শুরু হয়।

কৃষ্ণনগরের জনপ্রিয় পুজো কোনগুলি
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পুজো শুরুর পর কৃষ্ণনগরে তাঁর প্রজারাও জগদ্ধাত্রী পূজা শুরু করেন। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় পুজো বুড়িমার পূজা। এখানে সাড়ে সাতশো ভরি সোনায় গয়নায় দেবীর অলংকারসজ্জা করা হয়। এই দেবী অত্যন্ত জাগ্রতা বলে পরিচিত। এছাড়া এখানে বারোয়ারি জগদ্ধাত্রী পূজাগুলির মধ্য়ে ষষ্ঠীতলা, বউবাজার,মালোপাড়া, উকিলপাড়া, পাত্রমার্কেট, কৃষ্ণনগর স্টেশনের পুজো, তাঁতিপাড়া ও কালীনগরের পুজো বিখ্যাত।

কীভাবে শুরু হয়েছিল চন্দননগরের জগদ্বাত্রী পুজোর আরাধনা
কথিত আছে কৃষ্ণচন্দ্রের পূজোয় অনুপ্রাণিত হয় তৎকালীন ইংরেজ কলোনি ফরাসডাঙা অর্থাৎ বর্তমান চন্দননগরে, ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী জগদ্ধাত্রী পূজা শুরু হয়েছিলেন। চন্দননগরের ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী, কৃষ্ণচন্দ্রের দেওয়ান ছিলেন। নদিয়ায় পুজো শুরু থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ইন্দ্রনারায়ণ চাউলপট্টিতে প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা করেন। চাউলপট্টির সেই পুজোই আদি মায়ের পুজো নামে বিখ্যাত।

মেজো মা'র পুজো
জনশ্রুতি মতে, পরবর্তী সময়ে চাউলপট্টির ব্যবসায়ীদের মধ্য়ে মতান্তরের পর কাপড় ব্যবসায়ী শ্রীধর বন্দ্যোপাধ্যায়(মতান্তরে শশধর) চাঁদা তুলে আরও একটি পুজোর প্রবর্তন শুরু করেন। এটি চন্দননগরের দ্বিতীয় প্রাচীনতম পুজো বলে পরিচিত। সেই পুজোই কাপড়পট্টির পুজো নামেও প্রচলিত। চন্দননগরের লক্ষ্মীগঞ্জ, চাউলপট্টি, কাপড়পট্টি, চৌমাথার পূজাতেই সিংহের রং সাদা হয়। এছাড়া বাগবাজার সর্বজনীন, বড় থানা এলাকার পুজো, হেলাপুকুরধার, অম্বিকা অ্যাথলেটিক ক্লাব, তেঁতুলতলার পুজো,নতুন পাড়া, মানকুন্ডু স্পোর্টিং, সনাতন সংঘ, নিয়োগী বাগান, বড় দীঘির ধার, নতুন তিলি ঘাট সর্বজনীনের পুজো জনপ্রিয় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম।

দুই নগরের পুজোর মধ্যে জোর টক্কর
কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর মধ্যে কোন পুজো আগে শুরু হয়, সেই নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। অনেকেরই যুক্তি চন্দননগরের আদি মা অর্থাৎ চাউলপট্টির পুজো দুই নগরের মধ্যে প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজো।
পাল্টা অনেকে আবার কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পুজোকে প্রথম পুজো মনে করেন। উৎসবের দিনে দুই নগরের জগদ্ধাত্রীপুজোয় প্রতিমা,মণ্ডপ ও আলোকসজ্জায় জোর টক্কর দেখা যায়।












Click it and Unblock the Notifications