মোদী সরকার সিবিআইকে ব্যবহার করছে? সুপ্রিম মান্যতা পেল মমতা সরকারের অভিযোগ
ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিবিআইকে কাজে লাগানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসক দল বিজেপি তদন্তকারী সংস্থাকে কাজে লাগাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল বারবার এই অভিযোগ করে চলেছে। এবার সেই অভিযোগই মান্যতা পেল সুপ্রিম কোর্টে।
সিবিআইয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার সেই মামলার শুনানির হয়। প্রাথমিক ভাবে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ধাক্কা খেল এই মামলায়। এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিআর গভাই ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা উঠেছে। সিবিআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে রাজ্য সরকার অভিযোগ করেছে। তার গ্রহণযোগ্যতা আছে। মনে করছেন ডিভিশন বেঞ্চ। কেন্দ্রের তরফে আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিল, রাজ্যের এই বক্তব্যের কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই৷ যদিও ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের সেই বক্তব্যকে মান্যতা দেয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদের অধীনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মূল মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ, রাজ্য ফেডারেল এজেন্সি মামলাগুলির তদন্তের জন্য সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করে নেওয়া সত্ত্বেও সিবিআই এফআইআর দায়ের করছে। তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এগুলি আঞ্চলিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। অনুচ্ছেদ ১৩১ কেন্দ্র এবং এক বা একাধিক রাজ্যের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের মূল এখতিয়ারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বারবার এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলছিল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের প্রচারেও সব সময় এই অভিযোগকে মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। এবার সুপ্রিম কোর্টে সেই অভিযোগ মান্যতা পেল। আগামী ১৩ আগস্ট ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
তৃণমূলের মুখপাত্র রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। ১৯৬৩ সালে তৈরি হয়েছে সিবিআই। আজ বিজেপির অন্যতম বিশ্বস্ত শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেটা জলের মতো পরিষ্কার। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, রাজ্যের ক্ষমতাকে খর্ব করে জোর করে সিবিআই বিভিন্ন কেস রেজিস্ট্রি করছিল।
সুপ্রিম কোর্ট যে মান্যতা দিয়েছে, তা কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের জয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো, রাজ্যের অধিকারের জয় হল। দাবি করলেন শান্তনু সেন।












Click it and Unblock the Notifications