ভোটের পর বঙ্গ বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও নেই কৈলাশ! তাহলে কি বড় সিদ্ধান্তের পথে মোদী-শাহ
বাংলার ভোটে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি! ২০০ এরও বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন মোদী-শাহ। আর সেই স্বপ্ন বাস্তব করতে কাএজত গোটা টিম নিয়ে বাংলাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মোদী। কিন্তু তাতেও লাভ কিছু হয়নি। মাত্র ৭৮টি আসন পেয়ে খুশ
বাংলার ভোটে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি! ২০০ এরও বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন মোদী-শাহ। আর সেই স্বপ্ন বাস্তব করতে কাএজত গোটা টিম নিয়ে বাংলাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মোদী। কিন্তু তাতেও লাভ কিছু হয়নি। মাত্র ৭৮টি আসন পেয়ে খুশি থাকতে হয়েছে বঙ্গ বিজেপিকে। কিন্তু কেন এই হাল? কেন এমন ধাক্কা? একেবারে গভীরে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে যান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। আর তাই দলের সমস্ত নেতৃত্বের সঙ্গে ভার্চুয়ালের মাধ্যমে বৈঠকে বসছেন নাড্ডা।

শুরু হয়েছে বৈঠক!
ইতিমধ্যে হেস্টিংস দফতরে শুরু হয়েছে বিজেপির এই বৈঠক! ভোটের পর এই প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকে বঙ্গ বিজেপি। ফলাফল প্রকাশের পর থেকে দলের মধ্যে বিদ্রোহের অবস্থা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে মুকুল রায় দল ছেড়েছেন। এই অবস্থায় বিজেপির এই বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে কর্মী সমর্থকদের মার খাওয়া ও ঘরছাড়া হওয়া এবং নেতা, এমএলএদের দলত্যাগ করে তৃণমূলে ফেরায় জেরবার গেরুয়া শিবির। এমত অবস্থায় বঙ্গ-বিজেপিতে পরিবর্তনের দাবি উঠছে ২রা মে থেকেই৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক বিজেপি নেতাই জানিয়েছে, দলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। সেই পরিবর্তনের জন্যই এবার বঙ্গ বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতাদের নিয়ে মিটিংয়ে বসতে চলেছে বিজেপি।

৫০ জন নেতা সশরীরে রয়েছেন এই বৈঠকে!
হেস্টিংশের অফিসে শুরু হয়েছে এই বৈঠক। শুভেন্দু অধিকারী, সব্যসাচী দত্ত সহ একাধিক বিজেপি নেতা উপস্থিত রয়েছেন। করোনা পরিস্থিতিতে যদিও সবাইকে একসাথে ডাকা হয়নি। মাত্র ৫০ জন বিজেপি নেতা এই মুহূর্তে রয়েছেন বিজেপি অফিসে। বাকিরা অনলাইনের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হয়েছেন।

বৈঠকে নেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়!
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৈঠকে এলেন না রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয় বিজেপির তরফে। এমনকি আজকে মিটিংয়ের লিঙ্কও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাঁর তরফে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের।

তবে কৈলাশের না থাকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!
ভোটের পর গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক। কিন্তু সেখানে উপস্থিত নেই বাংলার জন্য নিযুক্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। কার্যত ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই আর সেভাবে বাংলামুখী হননি তিনি। তাঁর ভূমিকা নিয়ে দলের মধ্যে এবং বাইরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল না হওয়াতে কেন্দ্রীয় এই পর্যবেক্ষককে নিয়ে জেলা এমনকি, রাজ্যস্তরের অনেক নেতার মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। অনেকে তা প্রকাশ্যেও এনেছেন। একাধিকবার প্রকাশ্যে তথাগত রায় কৈলাশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় নেতৃত্বকে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি কলকাতায় কৈলাসের নামে 'টিএমসি সেটিং মাস্টার', 'গো ব্যাক' বলে পোস্টার পড়ে।

আড়ালে লুকিয়ে কৈলাশ!
বৈঠকে রয়েছন দুই কেন্দ্রীয় নেতা শিবপ্রকাশ ও অরবিন্দ মেনন। তাঁরা এই বৈঠকে ভাষণও দেবেন। কিন্তু ভাষণ দেওয়ার তালিকাতেও নেই কৈলাশের নাম। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে তাহলে কি প্রথম ছাঁটাইয়ের তালিকাতে রয়েছেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়? যদিও এই বিষয়ে কেউ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যদিও নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, কৈলাশ শহরে এই বৈঠকে যদি যোগ দিতে আসেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে। আর তাই তাঁকে কিছুটা আড়ালে রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এমনকি মুকুল ইস্যুতেও তাঁকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা! আর সেই কারণে আপাতত তাঁকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications