সারদায় কোন রাঘববোয়ালের কী ভূমিকা, জানতে কোমর কষে নামল সিবিআই

সারদা
কলকাতা, ৬ জুন: সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন বারবার অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন রাজনীতিক দলের নেতা, মন্ত্রী কিংবা পুলিশকর্তারাই তাঁকে ডুবিয়েছেন। এদের খাঁই মেটাতে গিয়েই তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন। সেই অভিযোগের সত্যতা খুঁজে দেখতে এ বার কোমর কষে নেমে পড়ল সিবিআই। কোন রাঘববোয়াল কবে কী উদ্দেশ্যে কত টাকা নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে এদের যে শুধু জেরা করা হবে তাই নয়, গ্রেফতার করার সম্ভাবনাও ষোলো আনা।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ধসে পড়ে সারদা গোষ্ঠী। গ্রেফতার হওয়ার আগে সুদীপ্ত সেন একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন সিবিআই-কে। তখন অবশ্য এই কেলেঙ্কারির তদন্তে সিবিআইয়ের আসার লক্ষণ দেখা যায়নি। ওই চিঠিতে তিনি নির্দিষ্টভাবে কয়েকজনের নাম করেছিলেন। বর্তমানে গ্রেফতার হওয়া সাংসদ কুণাল ঘোষ ছাড়াও নাম ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের আর এক সাংসদের। ইনি আবার কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি বাংলা দৈনিকের সম্পাদকও। তা ছাড়াও যে যে নামগুলি ছিল, তা নিয়ে বিস্তর হইচই হলেও পরে ধামাচাপা পড়ে যায়। গ্রেফতার হওয়ার পর সুদীপ্ত সেন স্বীকার করেছিলেন, তাঁকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে কোটি কোটি টাকা লুঠপাট করেছে ওই রাঘববোয়ালরা। আর তাই আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

সিবিআই জানতে পেরেছে, রাজ্যের শাসক দলের কয়েকজন নেতা-মন্ত্রী সুদীপ্ত সেনের থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করত নানা কারণ দেখিয়ে। বিনিময়ে সুদীপ্তবাবুকে আশ্বাস দিয়েছিল, সারদা গোষ্ঠীকে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে। যখনই সুদীপ্তবাবু বেগড়বাঁই করেছেন টাকা দিতে, তখনই হুমকি এসেছে। শাসক দলের এক শীর্ষনেতার কাছে নিয়মিত মাসোহারা যেত বলেও প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে সিবিআই।

গোয়েন্দাদের মতে, ওই শীর্ষনেতা কখনও আপসরফার কাজ করতেন। যেমন সুদীপ্ত সেন এক বার একজন রাঘববোয়ালকে সাড়ে তিন কোটি টাকা দিয়েছিলেন। ওই টাকা পাওয়ার পরও সেই ব্যক্তি অতিরিক্ত চার কোটি টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগ সুদীপ্তবাবু ওই শীর্ষনেতার কাছে নালিশ জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত চার কোটি টাকা তাঁকে আর দিতে হয়নি। টাকার লেনদেন অধিকাংশ সময়ই নগদে হত, কখনও বা ব্যাঙ্ক মারফত। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে সিবিআইয়ের তরফে।

সিবিআই-কে তদন্তে সহায়তা করছে আর এক কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। এখন ইডি চেষ্টা চালাচ্ছে জেলবন্দি সাংসদ কুণাল ঘোষকে নিজেদের হেফাজতে পেতে। সিবিআই-ও একই চেষ্টা করছে। কুণালবাবু এর আগে সংবাদমাধ্যমে যে যে নেতা, মন্ত্রী, পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন, তাদেরকেও জেরা করতে পারে সিবিআই। এ ছাড়াও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সেবি ও রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজের কয়েকজন বড়কর্তাও কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+