তৃণমূল বিধায়ক ঘনিষ্ঠ নেত্রীর বাড়িতে সিবিআই, স্ক্যানারে একাধিক 'প্রভাবশালী'
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। আর এর মধ্যেই আরও এক তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তেহট্টের তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহার বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই।
প্রায় সাড়ে ১৪ ঘন্টা তল্লাশি চালানো হয়েছে। আর এরপরেই বিধায়ক তাপস সাহা ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে পৌঁছে গেলেন তদন্তকারীরা। ওই তৃণমূল নেত্রীর নাম ইতি সরকার বলে জানা গিয়েছে। প্রায় কয়েক ঘন্টা হয়ে গিয়েছে তাঁকে জেরা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

গোটা বাড়ি এবং এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কাউকে বাড়ির সামনে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু কীভাবে ইতি সরকারের নাম সামনে এল? সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ তল্লাশিতে এই মহিলার নাম পান তদন্তকারীরা। বেশ কিছু নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইতি সরকারকে সিবিআই আধিকারিকরা জেরা করছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে তাঁর ঘরে।
জানা গিয়েছে, এলাকায় একাধিক সরকারি স্কুলে পোশাক সরবরাহের কাজ পেয়েছিলেন এই তৃণমূল নেত্রী। এমনকি পোশাক তৈরির কাজের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু স্কুলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ইতি। এমনটাই খবর সিবিআই সুত্র। আর সেই সূত্র ধরেই এদিন সকাল থেকে জেরা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে বিধায়ক তাপসের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক প্রবীর কোয়ালের বাড়িতেও এদিন তল্লাশি চালানো হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতির মধ্যেই বোমা ফাটিয়েছিলেন প্রবীর। বিধায়ক চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা তুলেছিলেন। এমনকি কমিশন হিসাবে তাঁকে বাড়ি তৈরি করে দিয়েছিলেন বলেও দাবি বিধায়কের প্রাপ্তন এই আপ্তসহায়ক। প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে তাঁর বাড়িতে তল্লাশী চালান সিবিআই আধিকারিকরা। পাশাপাশি প্রবীরের বউকেও জেরা করেন তদন্তকারীরা।

অন্যদিকে তাপস সাহাকে জেরা উঠে এসেছে হাওড়ার শ্যামপুরের কাঁঠানলির বাসিন্দা তিনজনের নাম। আর এরপরেই তিনিজনের বাড়িতে সিবিআইয়ের তিনটি দল জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি নথি যাচাই করার কাজ করে বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ সেখান থেকে বেরিয়ে যান সিবিআইয়ের দলটি।
জনৈক অভিযুক্তের দাবি তিনি শুধুমাত্র কিছু জনের কাছ থেকে টাকা তুলে তারপর সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তার আর কোনও কাজ ছিলো না। এর আগে এই বিষয় নিয়ে তিনি রাজ্য পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছেন। জেল খেটেছেন। তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।












Click it and Unblock the Notifications