দুর্নীতির অভিযোগ, তৃণমূল সাংসদ দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিবিআই হানা
দলমত নির্বিশেষে সব সাংসদই সপরিবারে বেড়াতে যাওয়ার জন্য টাকা পান সরকারের কাছ থেকে। অভিযোগ, দেবব্রতবাবু বেড়াতে না গিয়েও ভুয়ো টিকিট দাখিল করে তুলে নিয়েছিলেন মোটা টাকা। এই দুর্নীতিতে তাঁকে সহায়তা করেছিল জনৈক ট্যুর অপারেটর। গোপনে এই খবর পেয়ে সিবিআই তদন্তে নামে। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় দেবব্রতবাবুর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়। শুক্রবার তাঁর দিল্লির বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আটক করা হয়েছে বলে দাবি সিবিআইয়ের।
রাজনীতিক তথা প্রশাসনিক মহলে দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি প্রাক্তন আইএএস। বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি ভূমি সংস্কার কমিশনার হয়েছিলেন। বামফ্রন্ট সরকারের ভূমি সংস্কার কর্মসূচি মূলত তিনিই বাস্তবায়িত করেন। এ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম দফতর, তপশিলি জাতি ও উপজাতি কল্যাণ দফতর এবং ভারত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকে তিনি নানা পদ অলঙ্কৃত করেছেন। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন।
সিবিআই-কে ব্যবহার করছে বিজেপি, তৃণমূলের তরফে বিবৃতি ডেরেক ও'ব্রায়েনের
দেবব্রতবাবুকে 'হেনস্থা' করায় নিন্দামূলক বিবৃতি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন বলেছেন, "কেন্দ্রে নতুন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সকলেই আশা করেছিল যে, এক নতুন পথচলার আরম্ভ হবে, উন্নয়নকে দিশা করে নানা কর্মকাণ্ড নেওয়া হবে। আমরা হতবাক যে, নতুন সরকার শুরুতেই কুৎসা, অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। বরিষ্ঠ তৃণমূল সাংসদ দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লির বাড়িতে সিবিআই 'নথি সংগ্রহ' করার নাম করে আজ হানা দেয়। দেবব্রতবাবু এ ব্যাপারে ওয়াকিবহালই ছিলেন না। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্যে সিবিআইয়ের ব্যবহারের আমরা তীব্র নিন্দা করি। এই ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী। ... চার দশকের ওনার কর্মজীবন সম্পূর্ণ নিষ্কলঙ্ক। এহেন মানুষকে কালিমালিপ্ত করার প্রচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন বিরোধীদের বিরুদ্ধে সিবিআইকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করেছে। বিজেপিও ক্ষমতায় এসে সেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করছে।"
দেবব্রতবাবু ছাড়াও রাজ্যসভার বিএসপি সাংসদ বি পাঠক, মিজো পিপলস ফ্রন্টের সাংসদ লালমিং লিয়ানার বিরুদ্ধে একই কারণে এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। তিন প্রাক্তন সাংসদ জে পি এন সিং (বিজেপি), রেণু বালা (বিজেডি) এবং মেহমুদ আরশাদ মাদানির (আরজেডি) বিরুদ্ধেও এলটিসি কেলেঙ্কারি যুক্ত থাকার অভিযোগে এফআইআর রুজু হয়েছে।













Click it and Unblock the Notifications