ছাত্রনেতা আনিস মৃত্যু-রহস্যের কিনারায় সিবিআই তদন্ত দাবি! হাজারো প্রশ্নের উত্তর মিসিং
ছাত্রনেতা আনিস মৃত্যু-রহস্যের কিনারায় সিবিআই তদন্ত দাবি! হাজারো প্রশ্নের উত্তর মিসিং
ছাত্রনেতা আনিস খান নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা করেছিলেন। তাই অভিযোগ জানিয়েছিলেন পুলিশের কাছে। কিন্তু তারপরও তাঁর নির্মম মৃত্যু হল। বাড়ির তিনতলার ছাদ থেকে নীচে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এখন তাঁকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হল, নাকি তিনি অসাবধানবশত পড়ে গেলেন, নাকি আত্মহত্যা করলেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

আনিসের পরিবার পুলিশের দিকে আঙুল তুলেছে। পুলিশি তদন্তের প্রতিও অনাস্থা প্রকাশ করেছে। কারণ অনিসের বাড়িতে পুলিশের উর্দিতে হানা দিয়েছিলেন আগন্তুকরা। তারা কারা। বাহ্যিক প্রকাশ তাঁরা পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়ার। কিন্তু তাঁরা পুলিশ-সিভিক ভলেন্টিয়ারের ছদ্মবেশে কোনও গুন্ডাবাহিনী নয় তো! এখনও প্রকাশ্যে আসেনি কারা শুক্রবার রাতে হানা দিয়েছিল আনিসের বাড়িতে।
আনিসের বাড়িতে পুলিশ-সিভিক ভলেন্টিয়ারের পোশাকে আগন্তুকরা যাওয়ার পর আনিস কেন পোন হাতে তিনতলার ছাদে চলে যায়, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এই ঘটনায় পুলিশরে দিকে আঙুল উঠেছে। ফলে শুক্রবার রাত থেকে কোনও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। কেন পুলিশ তাঁদের কাজ করলেন না, কেন তদন্ত শুরু হল না।
রবিবার পুলিশের একটি দল আনিসের বাড়িতে যায়। স্বভাবতই পুলিশ বিক্ষোভের মুখে পড়ে। স্থানীয়রা জবাবদিহি চায় পুলিশের কাছে। পুলিশ এই ঘটনায় কী তদন্ত করেছে, কাদের চিহ্নিত করেছে, কেন কেউ গ্রেফতার হল না এখনও, এমন নানা প্রশ্নে জেরবার হতে হয় পুলিশকে। পুলিস কার্যত ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এমন প্রশ্নও ওঠে, আনিস তো আগেই জানিয়েছিল পুলিশকে তাঁর প্রাণ সংশয়ের কথা, কেন পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিতে পারল না?
শুধু পুলিশই নয়, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করেন। রক্তমাখা মাটি থেকে শুরু করে কোন জায়গায় পড়েছিল মৃতদেহ, ছাদ থেকে কোন অ্যাঙ্গেলে আনিসের দেহ পড়ে, তা নোট নেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ ও ব়্যাফ নিয়ে ফরেনসিক দল এসেছিল গ্রামে।
আনিসের বাবা সাফ জানিয়েছেন, তাঁদের কোনও আস্থা নেই আমতা থানার পুলিশ, জেলা পুলিশ বা সিআইডির উপর। তাঁরা চান, সিবিআই তদন্ত হোক। প্রকৃত সত্য সামনে আসুক। কারা খুন করল আনিসকে, তাঁরা জানতে চান। কেন খুন হলেন তাঁদের ছেলে, তাও জানতে চান পুত্রহারা বাবা। তিনি প্রশ্ন করেন, কেন পরিবারের সদস্যের অনুপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত হল। পরিবারকে না জানিয়ে ময়নাতদন্ত করে কী ঢাকতে চাইছে পুলিশ।
পরিবারের দাবি, আনিসকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ সেজে বাড়িতে ঢুকে দুষ্কৃতীরা ছাদে নিয়ে গিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে আনিসকে। আবার একাংশ বলছে, এই ঘটনায় পুলিশই দায়ী। পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়াররাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। এমন দ্বিমতও শোনা যাচ্ছে রহস্য মৃত্যু হওয়া আমতার প্রতিবাদী ছাত্রের প্রতিবেশীদের মুখে।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আনিস খানের মৃত্যুতে পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত গাফিলতির দাবি তুলেছে পরিবার। বাম ছাত্রসংগঠন এসএফআই প্রথম থেকে আনিসের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। এদিন আমতা থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এসএফআই। বাম চাত্র সংগঠনের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন সংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও। তবে এর পাশাপাশ প্রশ্ন উঠেছে, কেন বামফ্রন্ট বা বিরোধী কোনও শীর্ষ নেতাকে এখনও পর্যন্ত দেখা গেল আনিসের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।
ছাত্র নেতা আনিস খুনে শাসক দলের পক্ষে ফিরহাদ হাকিম তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন বিক্ষোভের সময় নয়। আনিসের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে আসল দোষীকে বের করতে হবে। তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কে বা কারা এই ঘটনায় জড়িত, কেন খুন হতে হল আনিসের মতো ছাত্রকে, তা জানা সবার আগে দরকার। তাই সবার উচিত তদন্তে সহযোগিতা করা।
তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই ঘটনায় টুইট করে জানান, পুলিশের পোশাক পরে তারাই খুন করে যারা পুলিশ আর সরকারকে ভিলেন বানাতে চায়। নিজেরা আড়ালে থাকতে চায়। তিনি প্রশ্ন তুলে দেন, পুলিশের পোশাক পরিকল্পিত ছদ্মবেশ নয় তো? এমন হাজারো প্রশ্ন উঠছে। নানা মহল থেকে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করা হচ্ছে, এখন দেখার আনিস রহস্যের সমাধান পুলিশ বা তদন্তাকারী সংস্থার তদন্তে কী উঠে আসে।












Click it and Unblock the Notifications