অনুব্রত মণ্ডলের লটারি জেতার রহস্যভেদে তদন্ত! চাঞ্চল্যকর তথ্য সিবিআই-এর হাতে
দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার পরে অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে তদন্ত করছে দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। এব্যাপারে লটারিতে এককোটি টাকা জেতা নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। এব্যাপারে চাঞ্ল্যকর তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে
দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার পরে অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে তদন্ত করছে দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। এব্যাপারে লটারিতে এককোটি টাকা জেতা নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। এব্যাপারে চাঞ্ল্যকর তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে সিবিআই-এর তরফে। শুধু এবারই নয়, এর আগে অন্তত তিনবার অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর মেয়ের অ্যাকাউন্টে লটারির টাকা ঢুকেছে।

আগে আরও তিনবার লটারি টাকা ঢুকেছে
সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁরা গত ডিসেম্বরে লটারিতে ১ কোটি টাকা জেতার তদন্ত করতে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের অ্যাকাউন্টে আরও তিনবার টাকা ঢোকার প্রমাণ পেয়েছেন। সুকন্যার অ্যাকাউন্টে একবার ২৫ লক্ষ টাকা এবং একবার ২৬ লক্ষ টাকা ঢুকেছে। এছাড়া অনুব্রত মণ্ডলের অ্যাকাউন্টে ২০১৯-এ একবার ১০ লক্ষ টাকা ঢুকেছে লটারি থেকে। সিবিআই আধিকারিকরাও তাজ্জব হয়ে যাচ্ছেন, কেন একটি পরিবার বারে বারে লটারি পাচ্ছে কিংবা তাঁদের অ্যাকাউন্টে লটারির টাকা ঢুকছে।

সিবিআই নজরে অনুব্রত ঘনিষ্ঠরা
অনুব্রত মণ্ডলের লটারিতে ১ কোটি টাকা জেতার তদন্ত করতে গিয়ে তাঁর পরিবারের অ্যাকাউন্টে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি এবার তাঁর ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টেও নজরদারি চালাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সিবিআই খতিয়ে দেখছে অনুব্রত মণ্ডলের পরিবারের পাশাপাশি তাঁদের অ্যাকাউন্টেও গরু পাচারের কালো টাকা লটারির মাধ্যমে সাদা করা হয়েছে কিনা।

সিবিআই-এর অভিযান
২০২১-এর ৭ ডিসেম্বরের 89H54045 নম্বরের লটারি জিতেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। ৬ টাকার টিকিটে অনুব্রত মণ্ডলের ১ কোটি টাকা জেতা নিয়ে কাগজে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়। অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারের পরে বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই তদন্ত শুরু করে সিবিআই। টিকিটটি কার কাছ থেকে কিনেছিলেন, কেই বা টিকিটটি কিনেছিলেন, বিক্রেতা কে ছিলেন কিংবা চোরাচালান থেকে আয় গোপন করতেই লটারিকে সামনে রাখা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। তারই অঙ্গ হিসেবে বোলপুর ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালান সিবিআই আধিকারিকরা। লটারির ডিলার, সাব ডিলার, খুচরো বিক্রেতাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। লটারির খুচরো বিক্রেতা শেখ মুন্না জানিয়েছিলেন, তিনি অনুব্রত মণ্ডলকে সেই টিকিট বিক্রি করেননি।

লটারির সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, ডিয়ার (ভাইপো) লটারির সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে টাকা পাচারের সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষ লটারির টিকিট কিনে সর্বশান্ত হচ্ছেন আর তৃণমূলের নেতারা লটারির টাকা পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এব্যাপারে অনুব্রত মণ্ডলের পাশাপাশি জোড়াসাঁকোর তৃণমূল বিধায়ক বিবেক গুপ্তার স্ত্রীর লটারিতে ১ কোটি টাকা জয়ের কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications