মুখ পুড়ল হিরণের, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তারকা সাংসদ দেবকে ক্লিনচিট CBI-র
নিযোগ দুর্নীতি মামলায় ক্লিনচিট পেলেন ঘাটালের তারকা সাংসদ অভিনেতা দেব। সিবিআই রিপোর্টে দেব কে ক্লিনচিট দিয়েছে। বিজেপি নেতা হিরণ দেবের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন। তা প্রমাণে একটি অডিও টেপও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
সেই ভাইরাল অডিও দেব কে জড়িয়ে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। ঘটনার সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা হয় হাইকোর্টে। সেই মামলায় সোমবার, সিবিআই রিপোর্ট দিয়ে জানিয়ে দিলো, দেব কে জড়িয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন। সিবিআই ভাইরাল অডিও নিয়ে তদন্ত এগোতে চায়না। সিবিআই রিপোর্ট দেখে মামলার নিষ্পত্তি করে দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। কোনও নির্দেশ ছাড়াই নিষ্পত্তি হয় মামলার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য লোকসভা নির্বাচনের আগে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিরণ একটি অডিও টেপ প্রকাশ্যে এনেছিলেন। তাতে নাকি দেবের গলা ছিল। দেব নাকি এক চাকরি প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি এবং তাঁর পিএ নাকি মোটা টাকা নিয়েছিলেন সেই মহিলার কাছ থে্কে।
সেই অডিও টেপের উপরে ভিত্তি করেই দেবের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে বিজেপি। দেব যদিও প্রথমে এই নিয়ে কথা বলতে না চাইলেও পরে বলেছিলেন তিনি কোনও রকম নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। পুরোটাই মিথ্যে রটনা করা হচ্ছে। ভোট রাজনীতির জন্যই হিরণ এগুলো করছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন অভিনেতা দেব। লোকসভা ভোটের বিপুল ভোটে ঘাটাল কেন্দ্রে জয়ী হন দেব।
প্রচারের সময় কিন্তু প্রতিপক্ষ হিরণের বিরুদ্ধে কখনও আক্রমণাত্মক দেখা যায়নি দেবকে। হিরণ কিন্তু দেবের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করে গিয়েছেন। এর আগেও দেবের বিরুদ্ধে কয়লা পাচারের টাকা নিয়ে সিনেমা করার অভিযোগ করেছিলেন হিরণ। তিনি দাবি করেছিলেন কয়লা পাচারের টাকা নিয়ে দেব সিনেমা তৈরি করেছেন।
কয়লা পাচার কাণ্ডে দেবকে তলব করে একাধিকবার জেরা করা হয়েছে। কখনও কলকাতায় তো কখনও দিল্লিতে ইডির দফতরে তাঁকে ডেকে জেরা করেছে ইডি। দেব কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে সবরকম সাহায্য করেছেন। দেব বলেছিলেন তিনি তদন্তকারীদের সবরকম সাহায্য করবেন। সেই মতোই কাজ করবেন।
দেবের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। তিনিও অভিযোগ করেছিলেন যে কয়লা পাচারের টাকা গিয়েছে দেবের অ্যাকাউন্টে। মোটা টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তিনিও দেবের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তারপরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিলেন রাজনৈতিক মহলে।
লোকসভা ভোটের আগে একবার রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন ঘাটালের সাংসদ। সঙ্গে তাঁকে নিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ভোটে দাঁড়াতে রাজি করান তাঁরা। ঘাটালের মানুষ তাঁকে চায় বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications