পাহাড়ে বনধ ডেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের সামনে মোর্চা, কলকাতা হাইকোর্টে হল শুনানি
যে কোনও বনধই বেআইনি বলে আগেই রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র। আবারও তাঁর রায়কে সম্মান জানিয়ে হাইকোর্ট জানিয়ে দিল পাহাড় বনধ অবৈধ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যার অনেক আগেই পাহাড়ের বনধকে অনৈতিক আখ্যা দিয়েছিলেন, এবার তাতে সিলমোহর লা্গাল হাইকোর্ট। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট ঘোষণা করে দিল পাহাড় বনধ অবৈধ। ফলে বনধ ডেকে আরও বিপাকে পড়ল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। এই পরিস্থিতিতে মোর্চা নেতৃত্বকে পাহাড় বনধে ক্ষতিপুরণও দিতে হতে পারে।

এবার পুরসভা নির্বাচনের পর মমতার প্রথম সফরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাহাড়। বিক্ষোভ, আন্দোলন, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ, সবশেষে বনধের রাজনীতিতে সরগরম হয়ে ওঠে পাহাড়। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থি্তিতে জ্বলতে শুরু করেছিল পাহাড়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তা প্রশমিত করে কলকাতায় ফেরেন।
কিন্তু ধিকিধিকি আগুন জ্বলতেই থাকে। মমতা ফিরে যাওয়ার পরই আসল খেলাটা শুরু করেন বিমল গুরুং। অনির্দিষ্টকালীন বনধ ডেকে পাহাড়ের পর্যটকদের তাড়িয়ে ছাড়েন তিনি। মমতার প্রশাসন গুরুং-এর বিরুদ্ধে কড়া ভূমিকা নেয়। সেনা নামিয়ে, পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পাহাড়ে অশান্তির আগুন প্রশমিত করার চেষ্টা হয়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, আসলে পাহাড়ে মোর্চার আধিপত্যে তৃণমূল ক্রমশ ভাগ বসাতে শুরু করায় তার মোকাবিলা কোন পথে করবেন গুরুং, তা স্থির করে উঠতে পারছেন না তিনি। তাই নিজেদের অবস্থার বারবার বদল করছেন। বনধের পর আমরা বনধ ডাকিনি বলে দাবি করা, তারপর ফের অনির্দিষ্টকালীন বনধের রাস্তায় হাঁটার মধ্যে এই অস্থিরতা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবার মিরিক পুরসভা জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ তিন দশক পর পাহাড়ে সমতলের কোনও দল হিসেবে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। এমনকী দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং পুরসভাতেও তৃণমূল প্রতিনিধি পাঠাতে সক্ষম হয়। পাহাড়ে নিজেদের কর্তৃত্বে তৃণমূল ভাগ বসাবে, সেটা মেনে নিতে পারছে না মোর্চা। তাই পুরনো গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে ফের তুলে ধরে পাহাড়ে আগুন জ্বালাতে নেমে পড়েন মোর্চা সমর্থকরা।












Click it and Unblock the Notifications